পাবনায় ইসিএসএপি প্রকল্পের সিএসওদের কার্যকর অংশগ্রহণে জেলা প্রশাসনের সংযোগ ও সমন্বয় সভা

“বাংলাদেশ সকলের। জন্মগ্রহণ করলেই একজন নাগরিক সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন”—পাবনা জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেছেন।
তিনি বলেন, বিশ্বে নানা ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকলেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে নাগরিকদের মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্র একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করে। নৃগোষ্ঠী বা কোনো বিশেষ পরিচয়ের কারণে নয়, প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বুধবার দুপুরে পাবনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “ইসিএসএপি প্রকল্পের সিএসওদের কার্যকর অংশগ্রহণে নাগরিক পরিসর সম্প্রসারণে জেলা প্রশাসনের সাথে সংযোগ ও সমন্বয় সভা” অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্ম পালনের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। রাষ্ট্র জনগণের কোনো শত্রু নয়; বরং জনগণের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে। সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের জন্য বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছে। এসব সুবিধা গ্রহণের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্রের পাশে থেকে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সভার উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (MSF)-এর ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস মনিটরিং কর্মকর্তা কামাল আহমেদ সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই “বাংলাদেশের সমতল এলাকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনঘনিষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোকে প্রস্তুতকৃত পজিশন পেপার” উপস্থাপন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রেড-এর কর্মসূচি সমন্বয়ক আশিকুর রহমান। পজিশন পেপারে সমতল এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাপন, অধিকার, শিক্ষা, ভূমি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিনিয়র সিভিল জজ মোঃ আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, লিগ্যাল এইড অফিস সাধারণ মানুষের জন্য আইনগত সহায়তা প্রদানে সবসময় উন্মুক্ত। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আইনগত পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) উম্মে তাবাসুম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইয়াসমিন মনিরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন।
সভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরেন। তারা আসন্ন পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার ও নাশকতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, সম্প্রদায়ভিত্তিক স্কুল প্রতিষ্ঠা, পূজা পালনের জন্য মন্দির ও উপাসনালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ, আবাসন ও ভূমি বরাদ্দ এবং সরকারি বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।
মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচের শেপালী বসাক, আটঘরিয়ার শিপ্রা, ভাঙ্গুড়ার রনজিত বসাক ও ডা. দুলাল চন্দ্র সরকার। তারা নিজ নিজ এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন এবং সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং পাবনার ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন পর্যায়ের নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের অধিকার, সরকারি সেবা প্রাপ্তি, আইনগত সহায়তা, নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন