
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। গত ২ অক্টোবর রাতে এবং ৩ অক্টোবর ভোরে পরিচালিত এসব অভিযানে আসামীবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ১৩ বোতল ভারতীয় সিরাপ, ১১ কেজি গাঁজা ও ৬৮ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর রাত ৯টা ১৫ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর অধীন নতুনপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সীমান্ত পিলার ৬৬/৬-এস থেকে প্রায় ১৬০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলম মিয়ার আমবাগানের মধ্য থেকে নায়েব সুবেদার মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে আসামীবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৬৮ প্যাকেট কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
এরপর রাত ১০টা ১০ মিনিটে সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। সীমান্ত পিলার ৫৯/১-এস থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মো. মইনুল ইসলামের কালাই ক্ষেতের মধ্য থেকে নায়েব সুবেদার মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ১৮৯ বোতল ভারতীয় ‘Win Cerex Cough Syrup’ এবং ১১ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ৩ অক্টোবর ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আরও একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৫৬/৬-এস থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কচুয়ারপোতা কবরস্থানের পূর্ব পাশে নায়েব সুবেদার মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আসামীবিহীন অবস্থায় ৮২৪ বোতল ভারতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়। জব্দ করা সিরাপের মধ্যে ‘Win Cerex’ ও ‘Eskuf Cough Syrup’ রয়েছে।
তিনটি অভিযানে সর্বমোট ১ হাজার ১৩ বোতল ভারতীয় সিরাপ, ১১ কেজি গাঁজা ও ৬৮ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব মাদক ও চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।





