ভাঙ্গায় সৎ ভাইদের একাধিক মামলায় হয়রানির অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের সাঁওতার গ্রামে সৎ ভাইদের মধ্যে পৈতৃক বসতবাড়ির জায়গা বণ্টন নিয়ে স্থানীয় সালিশদারদের সর্বসম্মত রায় অমান্য করে আদালতে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। সালিশি ফায়সালা উপেক্ষা করে সৎ ভাই বাদশা সরদারের মেয়ে বৃষ্টি আক্তারের দায়ের করা মামলার  তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণ্যমান্য  ও ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৎ ভাই বাদশা সরদারের পরিবার ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে অন্যত্র চলে গিয়ে দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে পৈতৃক সম্পত্তির অংশ দাবি করে। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় সাঁওতার গ্রামের প্রবীণ মুরব্বিরা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিক বৈঠকে বসে। স্থানীয়
​সালিশগণ উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমি মেপে লম্বা সীমানা নির্ধারণ করে দেন। পশ্চিম পাশের অংশে গর্ত (পুস্কুনি) থাকায়  হাসমত সরদারকে দেওয়া হয় এবং পুরনো মাটি ভরাট অংশে সৎ দুই ভাই কে দেওয়া হয়। সৎ ভাইদের পক্ষকে গর্ত ভরাট বাবদ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা সালিশদারদের কাছে আমানত রেখে উভয় পক্ষই এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।
বণ্টন অনুযায়ী হাসমত সরদার নিজ অংশে ঘর নির্মাণ করতে গেলে বাদশা সরদার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। তিনি নিজে সামনে না এসে তাঁর  ভাইয়ের মেয়ে বৃষ্টি আক্তারকে বাদী করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করান।
​
এ বিষয়ে স্থানীয় সালিশগণ সাংবাদিকদের জানান, “আমরা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সুস্থ ও সুন্দরভাবে জমি বণ্টন করে দিয়েছিলাম এবং গর্তের ক্ষতিপূরণের টাকাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তারা প্রথমে থানায় অভিযোগ ও পরে আদালতে মামলা করেছে। আমরা সালিশের রায় অবমাননার তীব্র নিন্দা জানাই।”
​ভুক্তভোগী হাসমত সরদার বলেন, “সালিশ মেনে ঘর তুলতে গেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের অর্থদণ্ড হচ্ছে ও সময় নষ্ট হচ্ছে। আমরা এই হয়রানির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি ।”
​এ বিষয়ে মামলার বাদী বৃষ্টি আক্তারের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন