
শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির প্রতিবাদে আলবেনিয়ার রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এ সময় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে একটি সরকারি ভবন ও দুটি ব্যাংকে অগ্নিসংযোগ করেন। পুলিশের সঙ্গেও দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় শিক্ষার্থীদের।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এ সময় পথের পাশে থাকা ডাস্টবিন উল্টে ও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশও ভেঙে ফেলতে দেখা যায় তাদের। জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত রাইফাইজেন ব্যাংকের একটি শাখাও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ইদি রামার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই সবচেয়ে বড় আন্দোলন। গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আরোহণ করেন তিনি। তবে তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটিতে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে,বিক্ষোভকারীরা বিরোধীদলীয় নেতাদেরও বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে মানতে নারাজ।
এর আগে আলবেনিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের অর্থায়নে একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। পরে অবশ্য সে প্রকল্প আইনি জটিলতায় আটকে যায়।বুধবারের (১৪ অক্টোবর) পাথর ছুড়তে ছুড়তে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লরা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এটি একটি বিপ্লব। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে করতে ক্লান্ত। রামা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা থামব না।’
আন্দোলনের সমন্বয়করা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের করুণ দশা, উচ্চশিক্ষার খরচ বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তার অভাব এবং স্নাতক সম্পন্ন করার পর কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকার প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছিল। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে বর্তমানে ইউরোপজুড়ে যে ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে, এই অস্থিরতা তারই একটি অংশ।
এদিকে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইদি রামা। শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে চান জানিয়ে রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমার পদত্যাগের দাবি উঠছে। আমি শুধু এটাই বলব, সরকার পরিবর্তন হয় গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যম। গত বছরই আমাদের এখানে নির্বাচন হয়েছে। আমরা কোনও বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসিনি।’
