
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের সময় মাটির নিচ থেকে আগুনের ‘কুন্ডলি’ উৎপন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গ্যাসের গন্ধযুক্ত ধোঁয়া বের হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্তিত্বের কারণেই এমনটি হয়েছে।
উখিয়ার ইনানীর ছোট ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে একটি নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে আগুন এখনো জ্বলছে এবং তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী একটি পাঁচ তারকা হোটেলে কর্মরত আল আমিন জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ড দেখে তিনি ভয় পেয়েছিলেন কারণ তিনি এবং তার সহকর্মীরা আগুনের উৎসের পাশেই থাকেন।
অগ্নিকাণ্ড থেকে আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে লেগে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় উখিয়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে স্থানীয় মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামতঃ
প্রাকৃতিক গ্যাস বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গ্যাসের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে নলকূপ স্থাপনের মতো ছোট স্কেলের কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস এভাবে বড় আকারে আগুনের কারণ হয়ে দাঁড়ানো বিরল। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে মাটির নিচে বড় গ্যাসের রিজার্ভ থাকতে পারে।
সতর্কতাঃ
অগ্নিকাণ্ড থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের অগ্নিকাণ্ডের উৎস থেকে দূরে থাকার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।





