প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি তার এ পরিকল্পনার কথা প্রচার করেন।
বিডা চেয়ারম্যান লিখেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমার আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু গত এক মাসে অনেক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এবং ওয়ান-অন-ওয়ান রিভিউয়ে তার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কিছু নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য আমাকে আশাবাদী করেছে।
তিনি বলেন, প্রথমত তিনি একজন ভালো শ্রোতা। তিনি সবার কথা ধৈর্য ধরে শুনছেন। কাউকে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন না। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী ফলকেন্দ্রিক আলোচনা করছেন। ‘আপনার এই উদ্যোগে কী ফল পাওয়া যাবে এবং কত দ্রুত পাওয়া যাবে’—সবাইকে এসব প্রশ্ন করছেন। এবং তৃতীয়ত, তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সময়ানুবর্তিতা, শিষ্টাচার ও অনাড়ম্বর মানসিকতা তিনি নিজেই চর্চা করছেন।
যাহোক, গতকালের (সোমবার) ক্যাচ-আপ বৈঠকে আমরা তাকে আমাদের ১৮০ দিনের প্ল্যান শেয়ার করেছি। আমি আগেও বলেছি, সরকারি সংস্থাগুলোতে জবাবদিহিমূলক সংস্কৃতি আনা জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের আগামী ছয় মাসের প্রতিশ্রুতি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আশিক চৌধুরী পরিকল্পনা দিয়ে লেখেন—বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলে বিশ্বব্যাপী এফডিআই নিম্নমুখী। তাই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশি বিনিয়োগের প্রতিও মনোযোগ দেওয়া এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করা। কিন্তু অন্যান্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের শঙ্কায় ফেলেছে। এগুলো মাথায় রেখেই আমাদের ২৫টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হচ্ছে সরকারি বন্ধ ও রুগণ শিল্পকারখানাগুলোকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে প্রাইভেটাইজেশন, ফ্রি ট্রেড জোন ও সমরাস্ত্র শিল্প নীতিমালা প্রকাশ, বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা অনুসন্ধান, দুর্নীতি রোধে ও লিড টাইম কমাতে সমুদ্র ও বিমানবন্দরে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করা, প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাইভেট সেক্টর অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল গঠন, ব্যবসা-সংক্রান্ত সরকারি সেবার একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাবিজের সম্প্রসারণ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কোরিয়া-বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন করা এবং ছয় মাস শেষে আমাদের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে ফের একটি রেজাল্ট কার্ড প্রকাশ করা।
আশিক চৌধুরী আরও লিখেছেন, আমার কার্টুনিস্ট ফ্যানদের জন্য সুখবর। আমি সামনেও প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেব। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে হাত-পা না ভাঙার শর্তে অনুমতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো সেলফি নেই। প্রতিবারই এত কাজের মাঝে ছবি তোলা হয়ে ওঠে না।




