বৃহস্পতিবার,১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঈদে কেন ছুটি নেই তিন শতাধিক বনকর্মীর

এবার ঈদের ছুটি মেলেনি সুন্দরবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তিন শতাধিক বনকর্মীদের এবার ঈদের ছুটি বাতিল করেছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। তাদের সবাইকে ঈদে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ, স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতেই থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সেইসঙ্গে বনজসম্পদ রক্ষায় অতীতের তুলনায় বনের অভ্যন্তরে টহল আরও বেশি জোরদার করারও নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে বুধবার (২৫ মার্চ) পর্যন্ত কোনো বন কর্মকর্তা নিজ নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। তাই এবার তাদের ঈদ করতে হবে পরিবারবিহীন নির্জন বনাঞ্চলে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে দুইটি রেঞ্জ রয়েছে। এর একটি হলো খুলনা আর অপরটি হলো সাতক্ষীরা। এই দুই রেঞ্জ কার্যালয়ের আওতায় রয়েছে ৯টি স্টেশন ও ৩০টি টহল ফাঁড়ি। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিশাল এলাকাজুড়ে মোট জনবল রয়েছে প্রায় তিনশ জন। যেখানে পদ ও চাহিদা রয়েছে পাঁচশ জনের অধিক। চাহিদার তুলনায় কম জনবল দিয়েই বিশাল বন পাহারা দিতে হচ্ছে।

যে কোনো ছুটির সময়ে দুর্বৃত্তরা বনের সম্পদ লুটপাট ও ধ্বংসের সুযোগ নিতে চায়। এ কারণে এ বছরও সুন্দরবনের অভ্যন্তরের সব ফরেস্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করে নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় ছুটিকালীন টহল জোরদারের পাশাপাশি কঠোর নজরদারির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ছুটির সময়ে কোনো দুর্বৃত্ত যাতে বনের অভ্যন্তরে ঢুকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে সেজন্য রেঞ্জগুলোতে অত্যাধুনিক দ্রুতগামী স্পিড এবং ফাইবার বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কাঠের তৈরি ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা তো রয়েছেই।

বন বিভাগের একাধিক কর্মী জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ না থাকলেও দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্বই তাদের কাছে সবচেয়ে বড়।

তারা আরও জানান, আমরা না থাকলে বন নিরাপদ থাকবে না। তাই কষ্ট হলেও দায়িত্ব পালন করতেই হয়।

খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষণ (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বনের টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রেঞ্জ কার্যালয় জরুরি সভার মাধ্যমে স্ব স্ব স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নিদর্শনা দেওয়া হয়েছে। স্মার্ট পেট্রোলিংসহ ফুট পেট্রোলিং চলমান রাখা হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বন প্রহরী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু শুধুমাত্র বনবিভাগ ব্যতিক্রম।

তিনি বলেন, দুর্গম ও ভয়ঙ্কর বনাঞ্চলে বনপ্রহরীদের সব সময় জীবন বাজি রেখে ডিউটি করতে হয়। বেতন ছাড়া অন্যান্য তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দাবি করে আসলেও তার মধ্যে ২০১৭ সালে শুধুমাত্র ঝুঁকিভাতা চালু হয়েছে। এরপর থেকে বিভিন্ন দাবি দাওয়ার ব্যাপারে আবেদন করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

তিনি বনকর্মীদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সব কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাবেন আর বনবিভাগের কর্মীরা বনজসম্পদ রক্ষার তাগিদে বনের গহীনে

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন