‎কক্সবাজার জেলার বৃহত্তর রামুকে পৌরসভা করা রামুবাসীর প্রাণের দাবী

‎কক্সবাজার জেলার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তর উপজেলা বা থানা হচ্ছে রামু। কক্সবাজার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার শত শত বছর আগেই রামুর আবিষ্কার। কেউ কেউ বলেন ‘রাম’ এর নামানুসারে রামু উপজেলার নাম করণ। রামুতে রাম ও সীতার জীবনের বিভিন্ন ঘটনা, বিশেষ করে তাদের বনবাসকালের নানা উপাখ্যান বিজড়িত বেশ কিছু স্থান ও নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে রাংকূট এলাকায় রামের স্মৃতিবিজড়িত ‘রামকোট মন্দির’ ও ‘পঞ্চবটি বন’ অন্যতম, যা হাজার বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্য বহন করে বলে লোককথা ও ইতিহাসে প্রচলিত।

‎রামুতে রাম ও সীতার প্রধান নিদর্শনসমূহ:

‎শ্রী শ্রী রামকুট তীর্থ ধাম (রামকোট মন্দির): রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত এই মন্দিরটি রামের বীরত্বগাথা ও সীতার বনবাসের কাহিনী নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত।

‎রাম-সীতার পঞ্চবটি:

‎রাংকূট এলাকায় অবস্থিত বন বা পঞ্চবটি, যেখানে রাম, সীতা ও লক্ষণ বনবাসকালে অবস্থান করেছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে বিশ্বাস করা হয়।

‎রামের নামানুসারে রামু:

‎জনশ্রুতি রয়েছে যে, রামের এই অঞ্চলে অবস্থানের কারণেই স্থানটির নাম রামু হয়েছে।

‎ঐতিহাসিক নিদর্শন:

‎পাহাড়ের আশেপাশে প্রাচীন রাম-সীতা অঙ্কিত মুদ্রা বা স্মারক পাওয়ার কথা লোককাহিনীতে প্রচলিত।

‎উল্লেখ্য, রামকোট এলাকার আশেপাশে ‘রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহার’ও রয়েছে, যা ২ হাজার ৩শ বছরের পুরনো, তবে রামের স্মৃতিবিজড়িত হিন্দু তীর্থস্থান হিসেবেও রাংকূট এলাকাটি সমধিক পরিচিত।

‎অপর দিকে রামুতে বৌদ্ধ ধর্ম, শিক্ষা ও সংস্কৃতির একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র, যা ২হাজার ৩শত বছরের পুরনো রাংকুট বনাশ্রম সহ অসংখ্য প্রাচীন বিহার, প্যাগোডা ও বুদ্ধমূর্তি সমৃদ্ধ। এটি সম্রাট অশোকের সময় থেকে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের ধারক। বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে রামুর ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধারণ করে চলেছে। রামুতে বৌদ্ধ ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য বহু নিদর্শন এখনো রয়েছে।

‎প্রাচীন নিদর্শন:

‎রামুতে প্রায় ৩৫টিরও বেশি বৌদ্ধ মন্দির ও জাদি (প্যাগোডা) রয়েছে। এর মধ্যে রামকোট বনাশ্রম বা রাংকুট বিহার অন্যতম প্রাচীন, যেখানে গৌতম বুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত অস্থি বা relics সংরক্ষিত আছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

‎ঐতিহাসিক গুরুত্ব:

‎ঐতিহাসিকভাবে রামু আরাকান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৌদ্ধ ধারার সাথে গভীরভাবে যুক্ত। এখানকার বিহারগুলোতে মূল্যবান ধাতু, রত্ন এবং প্রাচীন কাঠের কারুকাজ দেখা যায়।

‎বড় বুদ্ধমূর্তি:

‎উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড়চূড়ায় ১০০ ফুট দীর্ঘ সিংহশয্যা (শায়িত) গৌতম বুদ্ধের মূর্তি রামুতে অবস্থিত।

‎সংস্কৃতি ও উৎসব: এখানে বড়ুয়া বৌদ্ধ এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের সংমিশ্রণে একটি অনন্য বৌদ্ধ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। রামু আজও বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে টিকে আছে।

‎এছাড়াও যে ব্যক্তির নামানুসারে কক্সবাজারের নামকরণ, তিনিও বসবাস করতেন রামুতে। এখনও সেই বৃটিশ ক্যাপ্টেন ‘হিরাম কক্স’র বাংলো বিদ্যমান রামুতে। ইতিহাস ঐতিহ্যে রম্যভূমি রামুর প্রাচীন

‎সভ্যতার একটি নিদর্শন:

‎আড়াই’শ বছর আগে স্থাপিত-‘ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স এর বাড়ি’ অফিসের চর, রামু, কক্সবাজার।

‎ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স!

‎যিনি একজন কূটনীতিক ছিলেন। তাঁকে এ অঞ্চলে শরনার্থী সমস্যা নিরসনের জন্য তৎকালীন বাকলিয়া পরবর্তী পালঙ্কী > কক্স সাহেবের বাজার (বর্তমান কক্সবাজার) এর মহাপরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। দাপ্তরিক কাজের খাতিরে রামু উপজেলায় তিনি এ বাংলো নির্মাণ করেন। বাংলো বাড়িটি রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসের চর এলাকায় অবস্থিত। কক্সবাজার শহর থেকে এটি ২৫ কিলোমিটার দূরে। সেখানে যেতে হলে প্রথমে পৌঁছাতে হবে রামু চৌমুহনী স্টেশনে। এরপরে ২ কিলোমিটার দক্ষিণে রামু-মরিচ্যা আরাকান সড়কের পশ্চিম পাশে নজর পড়বে বাংলো বাড়িটি। বিগত আড়াই’শ বছরের পুরনো এ বাড়িকে ঘিরে সে সময় ছিলো প্রান চাঞ্চল্য। তাঁর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলো বাড়ি, সামাজিক প্রয়োজনে ক্রয় বিক্রয়ের জন্য ‘ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স’ একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন যা কক্স সাহেবের বাজার নামে পরিচিতি পায়। কথিত আছে তাঁর নামের সম্মানার্থে পরবর্তীতে সমগ্র জেলার নামকরণ করা হয় এই কক্সবাজার জেলা।

‎রামু বাসীর প্রাণের দাবী, ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক বাহক এবং প্রাচীন সভ্যতার সাংস্কৃতি বিজড়িত রম্যভূমি রামুকে পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন