মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসায় দুর্ধর্ষ চুরি: অবহেলা নাকি যোগসাজশ—উঠছে প্রশ্ন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় একটি মাদ্রাসায় সংঘটিত চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের মধ্যে প্রায় তিন লক্ষ টাকার সরকারি সম্পদ খোয়া যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
ঘটনাটি উপজেলার উত্তর মানিকখালী মুন্সি আঃ করিম বালিকা দাখিল মাদ্রাসায়। রমজানের দেড় মাসব্যাপী ছুটি শেষে গত ২৯ মার্চ মাদ্রাসা খোলার প্রথম দিনেই চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। নৈশপ্রহরী মাদ্রাসা সুপারকে জানান, শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষ থেকে ২০টি সিলিং ফ্যান, ২টি আইপিএস ও ব্যাটারি, একটি ২০০ লিটারের পানির ট্যাংকসহ লাইট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদ্রাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছিল চরম অব্যবস্থাপনা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে তালা লাগানোর কথা থাকলেও অধিকাংশ কক্ষই ছিল তালাবিহীন। অফিস কক্ষ ও প্রধান ফটকে ব্যবহার করা হয়েছিল নিম্নমানের তালা, যা সহজেই ভাঙা সম্ভব।
এছাড়া, নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিয়মিত রাতে মাদ্রাসায় অবস্থান না করে নিজ বাড়িতে থাকতেন। বিষয়টিকে ঘিরে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, কারণ মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি ও নৈশপ্রহরী নিকটাত্মীয় (চাচাতো ভাই)। এ পারিবারিক সম্পর্ক ও ঘটনার পর নৈশপ্রহরীর নীরবতা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—এত বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি হলেও আশপাশের কেউ কোনো শব্দ বা সন্দেহজনক কিছু টের পেল না কেন? বিষয়টি কি কেবলই অবহেলার ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত যোগসাজশ?
এ ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগটি যথাযথ তদন্তের জন্য যথেষ্ট কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি—দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং চুরি হওয়া সরকারি সম্পদ উদ্ধার করা হোক।
এ ঘটনায় এখন সবার দৃষ্টি পুলিশের তদন্তের দিকে। তদন্তেই বেরিয়ে আসবে—এটি নিছক অবহেলা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো রহস্য।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন