
কালিগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি গুরুতর আহত
অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (৩ জুন) ভোররাত আনুমানিক

অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (৩ জুন) ভোররাত আনুমানিক

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ধান ক্ষেতের ফলন এখন কৃষকের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং এক ভয়ংকর মরণফাঁদ। মাঠের কৃষক যখন নিজের রক্ত জল করে তপ্ত রোদে পুড়ে দেশবাসীর

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় আইনের শাসনের বদলে এখন ‘অপারগতার’ শাসন চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খোদ থানা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য, দায়িত্ব অবহেলা এবং প্রভাবশালী মহলের সাথে আর্থিক আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। ওসির এমন রহস্যজনক ‘নিষ্ক্রিয়তাকে’ পুঁজি করে এলাকায় মব জাস্টিস ও অবৈধ দখলদারিত্বের উৎসব শুরু হয়েছে, যার ফলে জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরা। তদন্তে দেখা গেছে, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের মাদকাটি গ্রামের প্রবাসী জাফর আলী গাজীর পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায়। জমি নিয়ে বিরোধে আদালত ১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও ওসি জুয়েল হোসেন তা কার্যকর করতে রহস্যজনকভাবে অস্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী সালমা বেগমের অভিযোগ, আদালতের কাগজ জমা দেওয়ার পর ওসি উল্টো নিজেকে ‘অপারগ’ বলে দাবি করেন। এই সুযোগে প্রতিপক্ষ মহব্বত ও জাহাঙ্গীর সেখানে অবৈধভাবে ঘর তুলে নিয়েছে। রতনপুর ইউনিয়নের দুলাবালা গ্রামে চিত্রটি আরও বিভীষিকাময়। প্রতিপক্ষের হামলায় আলমগীর হোসেনসহ তার প্রতিবন্ধী পিতা ও স্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। স্বজনদের দাবি, হামলার সময় বারবার ফোন করা হলেও ওসি কোনো ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয়দের মতে, ওসির এই নীরবতা মূলত হামলাকারীদের প্রতি এক ধরনের ‘মৌন সমর্থন’। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি অনুযায়ী, ওসির বিরুদ্ধে মূলত ৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে: ১। উচ্চ বা নিম্ন আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশ কার্যকর না করা। ২। ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় গেলে আইনি সহায়তা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া। ৩। প্রভাবশালী ও হামলাকারীদের সাথে ওসির গোপন আঁতাত। ৪।জরুরি প্রয়োজনে ফোন দিলেও সাড়া না দেওয়া। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান এবং সাংবাদিকদের আদালতের শরণাপন্ন হতে বলেন। আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না-এমন প্রশ্নে তিনি নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলেন, “আদালতের আদেশের কপি আমি পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য বা করণীয় নেই।” এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে ওসির অপসারণ দাবি করছেন। সাজিদ কিং নামে একজন সরাসরি অভিযোগ করেছেন, থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তার কাছে ৫০০০ টাকা দাবি করেছেন। রবিউল ইসলাম ও সিহাব আল দ্বিনের মতো অনেকেই প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে ওসির দ্রুত ‘ক্লোজ’ করার দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যেই ভুক্তভোগীরা সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের দাবি একটাই-দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বর্তমান ওসিকে প্রত্যাহার করে কালিগঞ্জে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা হোক। আইনের রক্ষক যখন নিজেই উদাসীন হন, তখন সমাজ বিচারহীনতার অন্ধকারে ডুবে যায়। কালিগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো অবিলম্বে খতিয়ে দেখা না হলে এই জনপদে বড় ধরনের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।##

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সারা দেশের ন্যায় উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে উপজেলার চারটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। উপজেলার চারটি কেন্দ্রের মধ্যে সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ৬৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৬৮১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩১৭ জন ও ছাত্রী ৩৬৪ জন উপস্থিত ছিল, অনুপস্থিত ছিল ৯ জন। কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (কোড নং-৫৫০) কেন্দ্রে মোট ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩১ জন অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছাত্র ১৮৫ জন ও ছাত্রী ১৪৬ জন, অনুপস্থিত ছিল ২ জন। এছাড়া কালিগঞ্জ নাছরুল উলুম সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২৬৫ জন এবং কালিগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ১৮৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। মঙ্গলবার সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাইনুল ইসলাম খান বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেতন থেকে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে। তিনি আরও বলেন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়া নিশ্চিত করতে এবং শব্দদূষণ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আইনশৃঙ্খলার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পরিচিত ‘৩৭ বীর’ ইউনিটের সেনাবাহিনী ক্যাম্পটি আজ গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ৫১ দিন পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ সফল অভিযান শেষে আজ সকালে ৫৪ জন সেনাসদস্যের দলটি যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তবে সেনাবাহিনীর এই প্রস্থানে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তির বদলে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। সকাল ০৮:১৫ মিনিটে ক্যাপ্টেন মোঃ সাজিদ-এর নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা যখন কালিগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজ ত্যাগ করছিলেন, তখন স্থানীয়দের চোখেমুখে ছিল উদ্বেগের ছাপ। এলাকাবাসীর মতে, গত কয়েক মাস কালিগঞ্জে অপরাধী, ভূমিদস্যু এবং অসাধু চক্রের জন্য সেনাবাহিনী ছিল এক মূর্তিমান আতঙ্ক। সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক সহিংসতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় পর নির্ভয়ে চলাফেরা করার সুযোগ পেয়েছিল। সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডাঃ শফিকুল ইসলাম বাবু এই প্রত্যাহারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন: “কালিগঞ্জে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। এই মুহূর্তে তাদের চলে যাওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। একটি বিশেষ সুবিধাবাদী ও ফ্যাসিবাদী চক্র আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে। সেনাবাহিনী আরও কিছুদিন থাকলে এই অশুভ শক্তিকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হতো।” যদিও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সাধারণ মানুষের দাবি ভিন্ন। চেয়ারম্যানের মতে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউএনও এবং পুলিশ মিলে পরিস্থিতি সামাল দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জনসাধারণের বড় একটি অংশ বর্তমান পুলিশি তৎপরতায় সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, পুলিশের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে। কালিগঞ্জবাসীর দাবি, সেনাবাহিনী যে ‘সেফ জোন’ তৈরি করে দিয়ে গেছে, পুলিশ প্রশাসনকে তা ধরে রাখতে হবে। যদি পুলিশ নিরপেক্ষভাবে এবং কঠোর হস্তে অপরাধীদের দমন করতে ব্যর্থ হয়, তবে উপজেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটবে। বিশেষ করে গ্রামগুলোতে রাতভর পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার দাবি তুলেছেন সাধারণ নাগরিকরা। কালিগঞ্জের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এখন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেনাবাহিনী যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারলে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট প্রকট হবে এবং জনপদটি আবারও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলীকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতারের পর আজ ফের পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি শক্তিশালী হাতবোমা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নের নবীননগর এলাকার হাবড়া নদী থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর হবে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্থানীয়রা নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি কালিগঞ্জ থানায় অবহিত করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি কয়েক দিন আগের হতে পারে। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।