অজানাকে জানা আর নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে।” সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃত ও অনৈতিক বিষয়বস্তুর অতিরিক্ত প্রচার মানুষের আচরণ ও মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত “এপস্টাইন ফাইল” নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিভিন্ন গোপন তথ্য প্রকাশের পর শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো একটি ঘটনা বা ফাইল প্রকাশকে সরাসরি অপরাধ বৃদ্ধির একমাত্র কারণ বলা না গেলেও, বিকৃত যৌনতা, সহিংসতা ও নিষিদ্ধ বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল সমাজের এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাদকাসক্তি, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা, সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক নজরদারির অভাব।
বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে শিশু ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে অন্তত ১৭৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৫৫টি, ফেব্রুয়ারিতে ৫৫টি এবং মার্চে ৬৬টি ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশে ধর্ষণের ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভুক্তভোগী ছিল ১৮ বছরের নিচের শিশু ও কিশোরী। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা ছিল পরিচিত ব্যক্তি বা নিকট আত্মীয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের একাধিক ঘটনা সামাজিকভাবে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিচারহীনতা ও প্রভাবশালীদের চাপের কারণে অনেক পরিবার অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত সচেতনতা। শিশুদের নৈতিক শিক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং পারিবারিক বন্ধন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।




