কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড লালমাই, বিদ্যুৎহীন কয়েক গ্রাম

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় রোববার সন্ধ্যা থেকে অর্ধলক্ষ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ে উপজেলার বেলঘর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন, ভূলইন উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এবং পেরুল উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের দৌলতপুর, বরল, কানিয়া পুকুরপাড় ও বলিপদুয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে আছি। দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপন করা জরুরি।’

জয়নগর এলাকার বাসিন্দা সজল জানান, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। পল্লী বিদ্যুতের উচিত জনবল বাড়িয়ে দ্রুত কাজ শেষ করা।’

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বাগমারা অঞ্চলের ডিজিএম সৌরাভ উদ্দীন সাদী জানান, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছপালা বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ায় অনেক জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা রোববার রাত থেকেই মাঠে কাজ করছেন। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় লাইন মেরামত করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।’

বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ও অন্ধকারে হাজারো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো মেরামত করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন