সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আইনশৃঙ্খলার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পরিচিত ‘৩৭ বীর’ ইউনিটের সেনাবাহিনী ক্যাম্পটি আজ গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ৫১ দিন পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ সফল অভিযান শেষে আজ সকালে ৫৪ জন সেনাসদস্যের দলটি যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তবে সেনাবাহিনীর এই প্রস্থানে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তির বদলে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
সকাল ০৮:১৫ মিনিটে ক্যাপ্টেন মোঃ সাজিদ-এর নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা যখন কালিগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজ ত্যাগ করছিলেন, তখন স্থানীয়দের চোখেমুখে ছিল উদ্বেগের ছাপ। এলাকাবাসীর মতে, গত কয়েক মাস কালিগঞ্জে অপরাধী, ভূমিদস্যু এবং অসাধু চক্রের জন্য সেনাবাহিনী ছিল এক মূর্তিমান আতঙ্ক। সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক সহিংসতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় পর নির্ভয়ে চলাফেরা করার সুযোগ পেয়েছিল।
সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডাঃ শফিকুল ইসলাম বাবু এই প্রত্যাহারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন: “কালিগঞ্জে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। এই মুহূর্তে তাদের চলে যাওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। একটি বিশেষ সুবিধাবাদী ও ফ্যাসিবাদী চক্র আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে। সেনাবাহিনী আরও কিছুদিন থাকলে এই অশুভ শক্তিকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হতো।”
যদিও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সাধারণ মানুষের দাবি ভিন্ন। চেয়ারম্যানের মতে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউএনও এবং পুলিশ মিলে পরিস্থিতি সামাল দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জনসাধারণের বড় একটি অংশ বর্তমান পুলিশি তৎপরতায় সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, পুলিশের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে।
কালিগঞ্জবাসীর দাবি, সেনাবাহিনী যে ‘সেফ জোন’ তৈরি করে দিয়ে গেছে, পুলিশ প্রশাসনকে তা ধরে রাখতে হবে। যদি পুলিশ নিরপেক্ষভাবে এবং কঠোর হস্তে অপরাধীদের দমন করতে ব্যর্থ হয়, তবে উপজেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটবে। বিশেষ করে গ্রামগুলোতে রাতভর পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার দাবি তুলেছেন সাধারণ নাগরিকরা।
কালিগঞ্জের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এখন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেনাবাহিনী যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারলে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট প্রকট হবে এবং জনপদটি আবারও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।




