গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী ঘটনার মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতি থেকে চিরবিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম। প্রায় এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে এবং মায়ের মাথায় হাত রেখে আর কখনও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকার শপথ নিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সোমবার আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ধনুয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক কর্মী ও কৌতূহলী মানুষের উপস্থিতিতে মাহাবুব আলমের এই প্রতীকী প্রতিবাদ ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
মাহাবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ২০০৬ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু তার দাবি, রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি নিজ দলের কিছু নেতাকর্মীর হাতেই নির্যাতনের শিকার হন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা করা হয় এবং তাকে কারাভোগ করতে হয়। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি দলের কিছু নেতাকর্মীর অনিয়ম ও দুর্নীতির সমালোচনা করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মাহাবুব আলম বলেন, “দলের জন্য জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করেছি। দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। অথচ শেষ পর্যন্ত সম্মান নয়, পেয়েছি অপমান, হয়রানি ও কারাভোগ। তাই আজ থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আমার সব সম্পর্ক শেষ। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও নিজেকে আর জড়াব না।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত তার মা হাওয়া বেগমের মাথায় হাত রেখে তিনি শপথ করেন যে, জীবনের বাকি সময় তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকবেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার এমন ঘটনা এ অঞ্চলে খুবই বিরল। ফলে বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় বা জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।




