গাজীপুরে লোডশেডিং এ বিপর্যস্ত জনজীবন ও শিল্পখাত

চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় গাজীপুরে লোডশেডিং আরও বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিল্পখাতেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলায় আগে যেখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৭ ঘণ্টা লোডশেডিং হতো, বর্তমানে তা বেড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সংকট তীব্র হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে গোসল, রান্নাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম।
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করলেও ডিজেলের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে সেটিও নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাজ না থাকায় বসে থাকতে হচ্ছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. ইউসুফ আলী জানান, তাঁর অধীনস্থ এলাকায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ৫৫৪ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩১৩ মেগাওয়াট। এতে ২৪১ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মে মাস নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
এদিকে, গাজীপুরের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইউরো ওয়াশিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খালিদ হোসাইন বলেন, আগে দিনে ৫–৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না, এখন তা বেড়ে ৮–১০ ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় নিয়মিত উৎপাদন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আগে বিকেল পাঁচটার পরও উৎপাদন চালু রাখা গেলেও এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতাও শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশে আসার আগ্রহ কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে গিয়ে অর্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে, তাতেও প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। ফলে তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গাজীপুর-২-এর আওতাধীন শ্রীপুর ও মাওনা এলাকায় সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে যাওয়ায় একাধিক এলাকায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
মাওনা জোনাল অফিসের ডিজিএম শান্তনু  জানান, ঝড়ে ৭টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল। সীমিত জনবল নিয়ে দ্রুত মেরামত কাজ চালিয়ে এখন বেশিরভাগ এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এদিকে, গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া নতুন বাজার ও ডিবিএল গার্মেন্টস এলাকার সামনে পানির জন্য দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
মাওনা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, সেখানে টিউবওয়েলের ব্যবহার কম। বিদ্যুৎ চলে গেলে পানির পাম্প বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তীব্র পানি সংকট সৃষ্টি হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

এলজিইডি টেকনোলজি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, গ্রামীণ সড়ক তালিকাভুক্ত না থাকলে,আবেদনে সংস্কার করা সম্ভব

গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে আইডিবিহীন সড়কগুলোকে উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায়