নসিংদীর পলাশে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত মিশাত শেখ (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে পলাশ উপজেলার দড়িহাওলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত মিশাত শেখ ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দড়িহাওলাপাড়া গ্রামের ইসমাইল শেখের ছেলে। তার সহযোগী মারুফ একই গ্রামের মোখলেছের ছেলে।
পলাশ থানার এজাহার ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘোড়াশালের দড়িহাওলা পাড়া গ্রামের প্রতিবেশী মিশাত শেখ দীর্ঘদিন ধরে দশম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাবসহ কু-প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর মা মেয়েকে উত্যক্ত না করতে ওই ছেলে ও তার পরিবারকে বার বার নিষেধ করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ৭টার দিকে ওই ছাত্রী দোকানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় মিশাত শেখ ও মারুফ (২৩)। পরে মিশাত শেখ তাদের পরিত্যক্ত বসত ঘরে নিয়ে ওই স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এদিকে মেয়ে বাসায় ফিরে না আসায় রাত ৯টার দিকে তাকে খুঁজতে বের হন মা ও তার তার খালাতো ভাই। পরে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে গিয়ে মারুফকে ঘরের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন এবং ঘরের ভিতরে দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এসময় স্কুল ছাত্রীর কান্না শুনে বসত ঘরের ভিতর ঢুকতে চাইলে প্রথমে মারুফ তাদের বাধা দেয়। পরে তারা বাধা উপেক্ষা করে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। এ অবস্থা দেখে মারুফ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে ওই স্কুল ছাত্রী তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা জানান। এতে তাদের মধ্যে চিৎকার ও চেঁচামেচির শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তারা মিশাত শেখকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১৫ মে) সকাল দশটায় ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে পলাশ থানায় মিশাত শেখ ও মারুফের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পলাশ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ কুতুব উল আলম বলেন, এ ঘটনায় মিশাত শেখকে গ্রেপ্তারের পর নরসিংদী কোর্টে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামী মারুফকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীকে রবিবার ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।
সচেতন এলাকাবাসী বলেন, দেশে দিনে দিনে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।



