জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দিনাজপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট, অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভূতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, দিনাজপুর জেলা। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ নিরসনে ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়। এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে বর্তমান জ্বালানি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আফতাব উদ্দীন মোল্লা, জাগপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরুল কায়েস রূপম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সভাপতি রুহুল আমিন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সাইদুল ইসলাম সৈকত, দিনাজপুর-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ একেএম আফজালুল আনাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন, শহর আমীর মাওলানা সিরাজুস সালেহীন এবং দিনাজপুর শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করছে। গ্যাসের অভাবে শিল্প-কারখানাগুলো উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং বহু এলাকায় রান্নার গ্যাস না থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত ব্যবহার অপেক্ষা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় এবং প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে বিভিন্ন অযৌক্তিক চার্জের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, সবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ফলে দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভূতুড়ে বিল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
স্মারকলিপিতে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-গত তিন মাসে আদায়কৃত ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানি আয়োজন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান; ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল; অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া; বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ করা; জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান; মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত; গ্যাস চুরি ও অপচয় বন্ধ; শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা; এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা এবং জ্বালানি খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট, মজুতদার ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোক্তা ও কৃষকবান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে ১১ দলীয় ঐক্য, দিনাজপুর জেলার পক্ষে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সহকারী সেক্রেটারি রাজিবুর রহমান পলাশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দিনাজপুর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক আবির, জাগপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরুল কায়েস রূপম এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা আহ্বায়ক মো. রুহুল আমীন।
নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের স্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে চলমান জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিজনিত জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন