ঝিনাইগাতী বাগেরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায়, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের বাগেরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। প্রায় চার বছর আগে বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনো নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বিকল্প ব্যবস্থায় কোনো রকমে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
শুধু ভবন সংকটই নয়, বিদ্যালয়ে নেই নৈশপ্রহরী। পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে অফিস করছেন শিক্ষকরা। নিরাপত্তাঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল খাতাপত্র, ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ওই ভবনেই রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে বাগেরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালে বিদ্যালয়ের জন্য একটি ছোট ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ ৩২ বছরেও ভবনটির সংস্কার, সম্প্রসারণ কিংবা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে একপর্যায়ে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং প্রায় চার বছর আগে তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো পরিত্যক্ত ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষকরা সেখানে অফিসের কাজ করছেন। বিদ্যালয়ের মাঠেও রয়েছে নানা সমস্যা। মাটি ভরাট না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে হাঁটুপানি জমে থাকে। সরেজমিনে বিদ্যালয়ের মাঠে রাজহাঁসের বিচরণও দেখা গেছে।
বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে ৬৩ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুবই কম বলে জানা গেছে। ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন পাঁচজন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়টি বাড়ির কাছেই হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে সন্তানদের সেখানে পাঠাতে অনেক অভিভাবকই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তাদের দাবি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, মাঠ সংস্কার, নলকূপ সচল এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধান করা হলে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুবার আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
ঝিনাইগাতী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. ফারহানা পারভীন বলেন, “বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সাড়া পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টির সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন