পোশাক কারখানায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ্যাডভান্সড এ্যাটেয়ার লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

কারখানার পাওয়ার গ্রিডের মূল্যবান যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২২ মার্চ) রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে বন্ধ থাকা এই কারখানায় সোমবার রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল প্রবেশ করে। ডাকাতরা প্রথমেই কারখানার ৯ জন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর পুরো কারখানায় তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট চালায় তারা।

কারখানার সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. পারভেজ বলেন, আমাদের পাওয়ার গ্রিডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা হতে পারে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কারখানার পরিচালক আওলাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুব বলেন, আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ইতোমধ্যে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।

শিল্পাঞ্চলে এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”