বাগেরহাটের ‘চন্দ্র মহল’ ঘিরে অনৈতিকতার বিস্ফোরক অভিযোগ, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

একসময় পারিবারিক বিনোদনের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত বাগেরহাট সদর উপজেলার রনজিৎপুর এলাকার ‘চন্দ্র মহল’ ইকো পার্ক এখন যেন ভিন্ন এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিনোদনের আড়ালে এখানে গড়ে উঠেছে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের এক নীরব কেন্দ্র, যা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

গোপন অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পার্কের ভেতরের কিছু নির্জন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দিনের আলোয়ও সন্দেহজনক চলাফেরা চোখে পড়ে, আর সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, এখানে কী হয়, সেটা সবাই জানে কিন্তু কেউ মুখ খোলে না। পরিবার নিয়ে যাওয়া এখন ঝুঁকির মতো মনে হয়।
সামাজিক অবক্ষয়ের শঙ্কা স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, পার্কটির এমন পরিস্থিতি আশপাশের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি একটি বড় সামাজিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সুরাইয়া খাতুন বলেন,
এটা শুধু একটি পার্কের বিষয় না এটা আমাদের সমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
পার্কে ঘুরতে আসা অনেকেই জানিয়েছেন, প্রত্যাশিত পরিবেশ না পেয়ে তারা হতাশ।
দর্শনার্থী মোঃ আকাশ বলেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে বিব্রত হতে হয়েছে। কিছু দৃশ্য একেবারেই অস্বস্তিকর, যা প্রকাশ করাও কঠিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনার বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা ও নজরদারির ঘাটতিই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
এ বিষয়ে পার্কের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার বাচ্চু মাতুব্বর বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন আর কতদিন?
তাদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ‘চন্দ্র মহল’ নামের এই বিনোদন কেন্দ্রটি সামাজিক অস্থিরতার প্রতীকে পরিণত হতে পারে।
বিনোদনের নামে যদি অনৈতিকতার বিস্তার ঘটে, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয় বরং পুরো সমাজের জন্য একটি অশনিসংকেত। ‘চন্দ্র মহল’ ইস্যু এখন শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি হয়ে উঠেছে বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার এক উদ্বেগজনক প্রতিফলন।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম জানতে পারলাম। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।##

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

নোবিপ্রবি গ্রন্থাগারে বৈধ আমদানিকৃত বই ফেরত দেওয়ার অভিযোগ আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য বৈধভাবে