বিষাক্ত কোবরার ছোবল, দ্রুত এন্টিভেনমে প্রাণে বাঁচলেন সাপুড়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গভীর রাতে সমন্বিত চিকিৎসায় সুস্থ ফরহাদ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিষাক্ত কোবরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক সাপুড়েকে দ্রুত এন্টিভেনম প্রয়োগ ও সমন্বিত চিকিৎসার মাধ্যমে প্রাণে বাঁচিয়েছে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি টিম।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ১টার দিকে কৈয়ারবিল এলাকার ফরহাদ (৩৫) নামে ওই সাপুড়ে বিষাক্ত কোবরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। পরে তিনি যে সাপটি তাঁকে ছোবল দিয়েছে, সেটিসহ চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন। ফরহাদ নিয়মিত গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাপ ধরার কাজ করেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত টিম দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে। কোনো ধরনের বিলম্ব না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে এন্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়।
চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সঠিক সময়ে এন্টিভেনম প্রয়োগ এবং নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত ও নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠেন ফরহাদ। রাত গভীর হলেও রোগীর জীবন রক্ষায় হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা প্রায় রাত ২টা পর্যন্ত চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যান।
তবে সুস্থ হওয়ার পরও ঘটনার মধ্যে কিছুটা হাস্যরসের জন্ম দেয় ফরহাদের আচরণ। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বারবার বলছিলেন, “আর মামু হড়ে (আমার মামু কোথায়)?”—এখানে ‘মামু’ বলতে তিনি তাঁকে ছোবল দেওয়া সাপকেই বোঝাচ্ছিলেন। বিষয়টি উপস্থিতদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাপে কাটার ঘটনায় সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলে ওঝা, কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় ভিড় করা, ক্ষতস্থানে কাটা-ছেঁড়া করা কিংবা কোনো প্রচলিত ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি প্রয়োগ থেকেও বিরত থাকতে হবে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য এন্টিভেনম মজুদ রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। ফলে সাপে কামড়ানোর পর যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, সাপের কামড়ের পর প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এন্টিভেনমসহ চিকিৎসা গ্রহণ রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে—গভীর রাত হলেও জরুরি চিকিৎসাসেবায় কোনো বিরতি নেই। রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর জীবন রক্ষার লড়াই শুরু করেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এমন দ্রুত, আন্তরিক ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবার জন্য স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও প্রশংসা করা হয়েছে।
সাপে কাটলে ঝাড়ফুঁক নয়—দ্রুত হাসপাতালে আসুন। সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লামায় বিপুল পরিমাণ চোলাই মদসহ মাদক কারবারি আটক স্থানীয়দের প্রশংসা, অপরাধ দমনে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে থানা পুলিশ

​বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে

উপবৃত্তির টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা, অভিভাবকদের সতর্ক করল কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান

সরকারি উপবৃত্তির টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অভিভাবকদের ফোন করে