পঞ্চগড় বোদা উপজেলায় রাতের আধারে প্রায় ৩০১ শতক জমির ভূট্টা, মরিচ ও বেগুন ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এসময় লাঠিসোটা সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ও বিশাল সংখ্যক বাহিনী দিয়ে চালানো হয় এই ফসলহানি কার্যক্রম।
গত শুক্রবার (১ মে) উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের আরাজী শিকারপুর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। এনিয়ে বোদা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক নজরুল ইসলাম ও মফিজুল ইসলামের পরিবার। তবে এনিয়ে এখনো কোন সুরাহা মেলেনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের আরাজী শিকারপুর মৌজার ১৪ টি দাগে মোট ৩০১ শতক জমি পৈতৃক সূত্রে দীর্ঘ ৬০-৭০ বছর ধরে ও ক্রয়সূত্রে মালিক হন মফিজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণ চাষাবাদ করে আসছিলেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে তারা জমির খারিজ করে সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে আসছেন। চলমান আরএস রেকর্ডভূক্তও হন। তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় মানুষজনের ইন্ধনে জমিগুলো জোরপূর্বক অবৈধভাবে নিজেদের দাবি করে জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন খয়রুল, জিয়াউর, তাহিরুল, শহিদুল, বিপ্লব, রাজু, জহিরুল, তাজু কাজিমুল, দেলোয়ার, হামিদুল, ইসমাইল সহ তাদের লোকজন। যদিও ইতিপূর্বে তারা জমিগুলো বিক্রি করেছেন। এমনকি তাদের প্রাপ্য হিস্যার অতিরিক্ত জমি বিক্রি করেছেন তারা। পরবর্তীতে জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে নানা সময় হত্যার হুমকি দিত খয়রুল সহ তাদের পক্ষের লোকজন। এনিয়ে আদালতে মামলা দায়েরও রয়েছে। এবং বাটোয়ারা মামলার রায় ও প্রাপ্ত হোন মফিজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামরা । পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ জমিতে ট্রাক্টর নিয়ে চাষাবাদ করতে গেলে খয়রুল, রফিকুল, জিয়াউর সহ তাদের লোকজন মফিজুল ইসলামের ও তাঁর ভাই নজরুল ইসলাম ও তাদের পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা করে বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, লুটপাট চালানো হয়। এসময় ১০ লক্ষাধিক টাকার স্বর্নালংকার লুটপাট করে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার জিনিসপত্র ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।
এরই মাঝে মফিজুল ইসলাম ও তার ভাই নজরুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হলে বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এনিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরে চলতি বছরের ২০ মার্চ রাতের আধারে মফিজুল ইসলামের দুই শতাধিক সুপারি গাছের চারা কোদাল ও দা দিয়ে কেটে ধ্বংস করে দেয় অভিযুক্তরা।
এছাড়া, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল রাতে ৩০১ শতক জমির ভূট্টা, মরিচ ও বেগুন ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করে ধ্বংস করেছে অভিযুক্তরা। বর্তমানে মফিজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামকে মসজিদে নামাজে যেতেও হত্যা সহ নানা হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে ভূক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের বৈধ জমিতে সঠিকভাবে চাষাবাদে যেতে পারছিনা খয়রুল সহ কতিপয় দূর্বৃত্তের কারণে। এখন নামাজে যেতেও তারা মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছে। এখন আমরা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। এছাড়া বাড়ির পশ্চিম পাশে প্রায় ১০ বিঘা কৃষি জমি গত একবছর ধরে পড়ে আছে।জমিতে চাষাবাদ করতে গেলেই তারা ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি ও চাষাবাদে বাধা প্রদান করছে।
অভিযুক্ত খয়রুল ইসলাম জানান, জমিগুলো আমাদের। আমরা কেন ওষুধ দিতে যাবো। আমাদের প্রতি যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সত্যি নয়। আমরা কাউকে হুমকি দিচ্ছি না।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোয়েল রানা বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। মফিজুল ও নজরুলদের জমি নিয়ে অপর পক্ষের সাথে মামলা চলমান রয়েছে। ফসলি জমিতে কারা বিষ প্রয়োগ করেছে যাচাই বাছাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



