সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে সাত দিন শিকলবন্দি থাকার পর ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ১১ জেলে। গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী তাদের অপহরণ করে। তবে এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।
জানা গেছে, অপহরণের তিন দিন পর অপর বনদস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শরীফ বাহিনী অপহৃত ১১ জেলেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।
জিম্মিদশা থেকে ফিরে আসা শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার জানান, গত ৩ মে রাতে তিনি ও আরও ১০ জেলে সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকায় মাছ ধরার সময় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তাদের অপহরণ করে। পরে তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, ৫ মে শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে জড়িয়ে তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। পরে মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে নৌকাযোগে তাদের ধানসাগরের আড়ুয়াবয়ার নদীর মোহনায় নামিয়ে দিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার হেঁটে তারা বাড়ি ফেরেন। রুবেল অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর বেদম নির্যাতন চালিয়েছে।
ফিরে আসা অন্য জেলেরা হলেন— উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছগির, রাকিব, লুৎফর হাওলাদার, বাদল হাওলাদার, সজিব হাওলাদার, হাফিজুল, আলমগীর ফরাজী, ইয়াসিন হাওলাদার, পাথরঘাটার পদ্মা স্লুইসগেট এলাকার রুবেল এবং খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে মহাজন ও মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, দস্যুরা প্রথমে জনপ্রতি ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা হলে জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও বিপদে পড়ার আশঙ্কায় জেলেরা কিংবা মহাজনরা কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, ‘মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলের ফিরে আসার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



