ওয়াকওয়ে, রেস্টুরেন্ট, সবুজায়ন ও শিশুদের বিনোদনকেন্দ্র; মাস্টার প্ল্যান-২০২৬ প্রণয়নে বদলে যাচ্ছে কচা নদীর তীর

ওয়াকওয়ে, রেস্টুরেন্ট, সবুজায়ন ও শিশুদের বিনোদনকেন্দ্র—মাস্টার প্ল্যান-২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
কচা নদীর স্বচ্ছ জল, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আর দৃষ্টিনন্দন বেকুটিয়া সেতু—সব মিলিয়ে পিরোজপুর কাউখালীর বেকুটিয়া দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান। এবার সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে এলাকাটিকে আধুনিক পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘বেকুটিয়া পার্ক মাস্টার প্ল্যান-২০২৬’।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কচা নদীর তীর ঘেঁষা বেকুটিয়া হয়ে উঠতে পারে পিরোজপুরের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করাই মাস্টার প্ল্যানের মূল লক্ষ্য।
মাস্টার প্ল্যানে কচা নদীর তীর ধরে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে। নদীর পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন নদীর সৌন্দর্য, সবুজ প্রকৃতি ও বেকুটিয়া সেতুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
নদীর তীরে থাকবে পরিকল্পিত বসার স্থান। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে সেখানে অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। নদীকেন্দ্রিক বসার ও অবকাশযাপনের ব্যবস্থাও রাখা হবে পরিকল্পনায়।
থাকছে রেস্টুরেন্ট, খেলার মাঠ ও সেলফি কর্নার
দর্শনার্থীদের খাবার ও অবকাশযাপনের সুবিধার্থে পার্কে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে দুই তলা বিশিষ্ট দুটি রেস্টুরেন্ট। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য থাকবে পরিকল্পিত খেলার ও বিনোদনকেন্দ্র।
এ ছাড়া দর্শনার্থীদের ছবি তোলা ও স্মৃতি ধরে রাখার জন্য থাকবে নান্দনিক সেলফি কর্নার। পার্কজুড়ে থাকবে পরিকল্পিত হাঁটার পথ, উন্মুক্ত স্থান ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের সমন্বয়।
বেকুটিয়া পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হবে বিস্তৃত সবুজায়ন ও ল্যান্ডস্কেপিং। গাছপালা, সবুজ মাঠ ও নান্দনিক স্থাপনার সমন্বয়ে পুরো এলাকাকে একটি মনোরম পরিবেশে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনায় শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং বেকুটিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃতি ও আধুনিকতার সমন্বয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
বাড়বে পর্যটন, তৈরি হবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টদের মতে, বেকুটিয়া পার্ক বাস্তবায়িত হলে পিরোজপুরের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন সেবাখাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেকুটিয়াকে এমন একটি পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেওয়া হবে, যেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা পাবেন আধুনিক ও নিরাপদ বিনোদনের সুযোগ।
কচা নদী ও বেকুটিয়া সেতুকে ঘিরে প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নয়; বরং পিরোজপুরের পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি বড় উদ্যোগ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে বেকুটিয়ার চেহারা, আর পর্যটনের মানচিত্রে নতুন পরিচয় পেতে পারে কাউখালী পিরোজপুর।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

আলফাডাঙ্গায় ৮০০ ফুট কাঁচা রাস্তায় চরম দুর্ভোগ: দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের জাটিগ্রাম দরুনা মন্দির থেকে দক্ষিণপাড়া