কালিগঞ্জে জমি বিরোধে মামলা-হামলা, ঘের থেকে মাছ লুটের অভিযোগ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দমদমা মৌজায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা, হামলা ও ঘের থেকে মাছ লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য  আব্দুল খালেক  জানান, দমদমা মৌজার খতিয়ান নম্বর ১৩৭ ও দাগ নম্বর ২৫ এর জমিটি ২০০৭ সালে কুলসুম বিবির নিকট থেকে হাজী আনিসুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও জাফর আলী ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ২০১১ সালে কালিগঞ্জ আদালত ক্রয়কৃত মালিকদের পক্ষে রায় দেন।
তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফসার উদ্দিন গাজী পুনরায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালে আদালত তার অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে পুনরায় ক্রয়কৃত মালিকদের পক্ষেই রায় প্রদান করেন।
পরবর্তীতে জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধ সম্পন্ন হলেও জমি দখল নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি আদালতে ১৪৫ ধারায় গেলে কালিগঞ্জ থানা তদন্তপূর্বক উভয় পক্ষকে জমিতে প্রবেশ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্দেশ অমান্য করে আফসার গাজী তার পেশীশক্তির বলে সরকার দলীয় নিজের পদবী ব্যবহারের মাধ্যমে লোকজন নিয়ে সম্প্রতি জমির ঘেরে প্রবেশ করে চাষকৃত কোরাল, টেংরা, বাগদা, পারশে ও তেলাপিয়া মাছ লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে মহিলাদেরকে ব্যবহার করে ঘেরের ঘর ভাঙচুর ও বেড়িবাঁধ কেটে দেয়ায় অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
এ সময় বাধা দিতে গেলে মালিকপক্ষকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় এবং পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় আজিজুল ইসলাম ও লিটন পাড় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় জমির ক্রয়কৃত মালিকরা আফসার আলী গাজীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদেরকে সামাজিক ও প্রসাশনিকভাবে হেনস্থা করার জন্য, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকার দলীয় নিজের ইউনিয়ন সভাপতি পদের জোর খাটিয়ে আফসার গাজী এলাকায় একাধিক জমি জবরদখলের সঙ্গে জড়িত এবং এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রকৃত মালিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। এব্যাপারে আফসার গাজী’র কাছে একাধিকবার ফোন কল  দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন