চকরিয়ার ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান চকরিয়া জমজম হাসপাতাল পিএলসি এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়,উক্ত সংবাদটি মিথ্যা অপপ্রচার দাবি করে ৪ জুলাই (মঙ্গলবার) সকাল ১১ টায় চকরিয়া জমজম হাসপাতাল পিএলসি’এর সম্মেলন কক্ষে অর্ধশতাধিক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন,
লিখিত বক্তব্যে জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, গত ৩০ জুলাই মাত্র ৩ দিন বয়সের ‘আফরা মনি’ নামের এক নবজাতককে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের অধীনে ভর্তি করা হয়। ৩ দিন সফল চিকিৎসার পর গত ২ আগস্ট শিশুটি সুস্থ হলে ডাক্তার তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে জানান: সংগী (এটেনডেন্ট)-এর অনুরোধে ৪ দিনের সিট ভাড়ার স্থলে ৩ দিনের বিল ধার্য করা হয়।
মোট বিল হয়েছিল ৮,০৫০ টাকা। তবে রোগীর পরিবারের অনুরোধে ২ দফায় ১৩৫০ টাকা ছাড় দিয়ে সর্বমোট ৬,৭০০ টাকা গ্রহণ করা হয়, যা প্রদান করে অভিভাবক স্বাচ্ছন্দে বাড়ি ফিরে যান।
চিকিৎসা চলাকালীন বা বিল পরিষদের সময় রোগীর স্বজনদের সাথে হাসপাতাল পরিচালক ফখরুল আনাম, ফাইনান্স ডিরেক্টর জিএম রুকুন উদ্দীন বা এমডির কোনো প্রকার তর্ক-বিতর্ক বা বাকবিতণ্ডা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত বা মৌখিকভাবেও রোগীপক্ষ কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।
কিন্তু পরবর্তীতে একটি স্বার্থান্বেষী সিণ্ডিকেট এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি করে। সেই দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আংশিক বিলের ফটোকপি ও এডিটিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “২১০০ টাকা সার্ভিস চার্জ”, “২১০০ টাকা ডাক্তার ফি” ইত্যাদি মনগড়া শিরোনামে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
চিকিৎসা খরচের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীদের সেবার কথা মাথায় রেখে এখানে সর্ব সর্বনিম্ন মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফি: মাত্র ৫০০ টাকা।
মেডিকেল অফিসার (MBBS) ফি: মাত্র ২০০ টাকা।
সিট ভাড়া: মাত্র ৭০০ টাকা (যা প্রায় এক বছর পূর্ব থেকে অপরিবর্তিত)।
ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে দিনে ২-৩ বার চিকিৎসক দেখলেও অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয় না। এমনকি দরিদ্র রোগীদের ১০% পর্যন্ত অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়।
এছাড়া প্রতি শুক্রবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ২০ জনেরও বেশি নামকরা অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই হাসপাতালে রোগী দেখেন, যেখানে চট্টগ্রাম শহরের তুলনায় অনেক কম ফি (৬০০-৭০০ টাকা) নেওয়া হয়। এই হাসপাতালে সিটি স্ক্যান, ডায়ালিসিস ইউনিট, ফিজিওথেরাপি, ট্রমা সেন্টার এবং উন্নত ল্যাব সুবিধা রয়েছে, যা আশপাশের অনেক হাসপাতালেই নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়, এ ধরনের মিথ্যা প্রচার ও কসাইখানা আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে ভবিষ্যতে এ এলাকার মানুষ উন্নত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে এবং চকরিয়ায় কোনো নামি-দামি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এসে চিকিৎসা সেবা দিতে উৎসাহিত হবেন না। মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চকরিয়াবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।


