জাতীয় কাল থেকে শুরু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নেবে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে। এতে অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে, ৭ জুনের মধ্যে শেষ হবে ব্যবহারিক পরীক্ষাও। পরীক্ষা নিয়ে নানা নীতিমালা এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের তৎপরতায় অন্যরকম পরিবেশে পরীক্ষা হতে যাচ্ছে বলে মত দিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই জরুরি নির্দেশনা জারি করছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। ৩ হাজার ২০৯টি কেন্দ্র আনা হয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়। সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে কেউ যেন নকল না করতে পারে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, অনেক জায়গায় সিসি ক্যামেরা অভ্যস্ত আছে। নতুন জায়গায় কেন্দ্র সচিবদেরকে সেভাবে অনুপ্রাণিত করেছি।

৩০ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী এমন এক সময়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন, যখন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা ও পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০-এর বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু নকল প্রতিরোধ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিসি ক্যামেরা ভীতি কাজ করে। শিক্ষামন্ত্রী যেভাবে ধমকের সুরে কথা বলতেছেন, সেগুলো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রচুর ট্রল হচ্ছে। এরইমধ্যে বাচ্চারা এক ধরনের প্যানিকে পড়ে গেছে। সরকার যেভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা করতেছে, পরীক্ষাটাকে হাইলাইট করতে চাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে শিক্ষার চেয়েও পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। অথচ গুরুত্ব তো পাওয়ার কথা ছিল শিক্ষা।

অন্যদিকে, যমুনা টেলিভিশনের দৃষ্টিগোচরে পর ‘নীরব বহিষ্কার’ নীতি বাদ দিলেও এখনও এমন কিছু নির্দেশনা বা নিয়ম আছে, যেগুলো অপ্রয়োজনীয় বলে মত এই শিক্ষাবিদের। তিনি আরও বলেন, এটা ভালো সিদ্ধান্ত। নীরব বহিষ্কার হতে পারে না। এটা ন্যায্য না। শিক্ষার্থীদের শেখাকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেখানে সত্যিকারের মূল্যায়ন হবে, এমন নীতিমালা রাখা দরকার।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুন্দর, স্বাভাবিক হবে। মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা দেয়ার জন্য আমাদের শিক্ষকদের ট্রেনিং নিতে হবে। শিক্ষকদের নিয়ে কাজ করতে হবে। শিক্ষকরা সঠিকভাবে যদি লেখাপড়া করান, তাহলে ছাত্রছাত্রীরা ভালো হবে এবং ভালো লেখাপড়া হবে। শুধুমাত্র বানান কারেকশন আর কোনো কিছু পরিবর্তন না।

 

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

এয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকায় এ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি

তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পরিলক্ষীত করেই একসময়ের রাজপথের লড়াকু