সীমান্ত পথে চোরাই ও ভেজাল চায়ের আগ্রাসনে সংকটে দেশের চা শিল্প

ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে নিম্নমানের ও ভেজাল চা দেশে প্রবেশ করায় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের চা শিল্প। বিশেষ করে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২০২৫ সালে প্রায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। তবে সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসা সস্তা চায়ের কারণে দেশীয় উৎপাদিত চা বাজারে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। এতে নিলামে অনেক সময় কম দামে চা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বাগান মালিকরা।

চা বাগান মালিকরা জানান, সার, জ্বালানি, পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে বাজারে অবৈধ চায়ের সরবরাহ বাড়ায় লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কিছু বাগান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে, চা শিল্পে মন্দার প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের জীবনেও। অনেক বাগানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় শ্রমিকরা কর্মসংস্থান ও মজুরি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার, চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা, দেশীয় চায়ের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং চা শিল্পে সরকারি সহায়তা বাড়ানো জরুরি।

বিজিবি বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে চোরাই চা জব্দ করলেও অবৈধ বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন