আমি কিডনি দেব, তবু বাবাকে ফিরিয়ে দিন- টাকার অভাবে থেমে আছে রফিকুলের কিডনি প্রতিস্থাপন বাবাকে বাঁচাতে ৮ বছরের সুমাইয়ার আকুতি

সিরাজগঞ্জ সদরের রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা উত্তরপাড়ার অটোচালক মো. রফিকুল ইসলামের সংসারে এখন শুধু হাহাকার। ঘরে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী নুরজাহান, বড় মেয়ে জান্নাতি, ছেলে ইয়াছিন আর ৮ বছরের ছোট্ট সুমাইয়া। একজনের আয়ে চলতো সংসার।
৭ মাস আগে হঠাৎ পেটে ব্যথা, বমি আর প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া শুরু হয় রফিকুলের। জেলা-ঢাকায় চিকিৎসা করেও লাভ হয়নি। পরীক্ষায় ধরা পড়ে দুটি কিডনিই নষ্ট। ডাক্তার বলেছেন ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া বাঁচানো সম্ভব না।
চিকিৎসা করাতে অটোরিকশা, গরু সব বিক্রি। এখন ঘরে খাবার নেই, চিকিৎসার টাকা নেই। স্ত্রী নুরজাহান কিডনি দিতে রাজি, কিন্তু লাখ টাকার অপারেশন করাবেন কীভাবে?
স্ত্রী নুরজাহান বলেন,সব বিক্রি করে দিছি। এখন পেটে ভাত নাই। আমি কিডনি দিতে চাই, টাকা নাই। আপনারা সাহায্য করেন।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছোট্ট সুমাইয়ার। অসুস্থ বাবার পাশে বসে সে বলে,মা যদি কিডনি দেয় তাহলে আমাদের কি হবে? এর চেয়ে আমি আমার কিডনি দিব, তাও বাবাকে বাঁচাব। বাবা তুমি ভালো হয়ে যাও।
অসুস্থ রফিকুল বলেন,ছেলে-মেয়েগুলার মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে ইচ্ছা করে। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।
প্রতিবেশীরা জানান,রফিকুল খুব ভালো মানুষ ছিল। পরিবারটি এখন একদম অসহায়। সরকার বা বিত্তবানরা সাহায্য করলে লোকটা বেঁচে যাবে।
ডাক্তারের মতে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন না করলে রফিকুলকে বাঁচানো যাবে না। ৮ বছরের মেয়ের “আমি কিডনি দিব” এই আকুতি প্রমাণ করে পরিবারটি কতটা অসহায়।
সমাজের হৃদয়বান মানুষ ও প্রশাসনের কাছে এই পরিবারটির জন্য সাহায্যের আবেদন। একটু সহযোগিতাই পারে সুমাইয়ার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

আমি কিডনি দেব, তবু বাবাকে ফিরিয়ে দিন- টাকার অভাবে থেমে আছে রফিকুলের কিডনি প্রতিস্থাপন বাবাকে বাঁচাতে ৮ বছরের সুমাইয়ার আকুতি

সিরাজগঞ্জ সদরের রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা উত্তরপাড়ার অটোচালক মো. রফিকুল ইসলামের