ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থী আলিফের চোখ হারানোর ঘটনার প্রতিবাদ ও তার প্রতি সংহতি জানাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী এক সমাবেশে প্রতীকীভাবে নিজের চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে মঞ্চে ওঠেন। তার এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বক্তব্যে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “আজকে আমি আলিফের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েই এখানে ব্যান্ডেজটা লাগিয়েছি। আপনাদেরই সন্তান ইন্টার পড়ুয়া একটি ছেলে। যাদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে আমরা বাংলাদেশের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। আলিফের আজকে চোখ নাই। গতকালকে আলিফের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তার একটি চোখে সে দেখতে পারবে না। অন্য আরেকটি চোখেও এটা ইফেক্ট পড়বে। বাংলাদেশকে দেখানোর জন্য আমি এই ব্যান্ডেজ লাগিয়েছি।”
তিনি বলেন, এই প্রতীকী কর্মসূচির উদ্দেশ্য আলিফের ঘটনার প্রতি জনসচেতনতা সৃষ্টি, ভুক্তভোগীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানানো।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও চোখে ব্যান্ডেজ এবং মুখে কালো টেপ লাগিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেন। তাদের ভাষ্য, চোখের ব্যান্ডেজ আলিফের প্রতি সংহতির প্রতীক, আর মুখে কালো টেপ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদের বার্তা বহন করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে এ প্রতীকী প্রতিবাদ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এটিকে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করছেন। আবার অনেকেই আলিফের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এনসিপির নেতাদের দাবি, সহিংসতা বা সংঘাতের পথ নয়, বরং প্রতীকী ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের দাবিকে সামনে আনতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আলিফের চোখ হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি অব্যাহত রয়েছে।



