কক্সবাজারের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র চকরিয়া পৌরসভা। কিন্তু বর্তমানে পৌরশহরের প্রধান সড়কগুলোর বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মগবাজার-থানা রাস্তার মাথা সড়ক, জনতা মার্কেট-ঘনশ্যাম বাজার সড়ক, হালকাকারা-ফুলতলা সড়কসহ শহরের ভেতরের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী, শিক্ষার্থী, যাত্রী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও তীব্র যানজট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্ত পানিতে ডুবে যায়। কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত—তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
চকরিয়া মহিলা (ডিগ্রি) কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া জান্নাত বলেন, “আমি প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করি। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় বড় বড় গর্ত পানিতে ডুবে থাকে। অনেক সময় যানবাহনের ছিটকে আসা নোংরা পানিতে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
শিক্ষিকা আফরোজা জেমি বলেন, “এ জরাজীর্ণ সড়ক এখন সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করছে। অনেক সময় নোংরা পানি ছিটকে পোশাক নষ্ট হয়, আবার ছোটখাটো দুর্ঘটনায় আহতও হচ্ছে।
চকরিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “চকরিয়া পৌরশহরের প্রধান সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয় না আমরা একটি আধুনিক পৌরসভায় বাস করছি। প্রতিটি সড়ক যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা পুকুরে পরিণত হয়। খানাখন্দের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ অবহেলা আর সহ্য করা যায় না। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে।
অটোরিকশা চালক আব্দুল আলম বলেন, “বেশিরভাগ সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ভাঙা অংশ দিয়ে ধীরগতিতে চলতে হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী বদি আলম বলেন, “রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে অনেক ক্রেতাই দোকানে আসতে চান না। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়, এতে মালামাল নষ্ট হয়। আবার পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। দ্রুত সড়ক সংস্কার হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
চকরিয়া পৌরসভা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, “খানাখন্দের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ক্রেতারা মার্কেটে আসতে অনাগ্রহী। মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত সড়ক সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার বলেন, “পৌরশহরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌরসভার প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পৌরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়—দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর সংস্কারকাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চকরিয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহরের প্রধান সড়কগুলো নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী করা এখন সময়ের দাবি।



