
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি পূর্বপাড়া সোহরাব চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদে জুমার খুতবার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ইমামকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা ও লাথি মারার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে কাওছার আহমেদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পবিত্র মসজিদের ভেতরে ইমামের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
ক্ষতিগ্রস্ত ইমাম হাফেজ মাওলানা আল-আমিন অভিযোগ করে জানান, সম্প্রতি অভিযুক্ত কাওছারের (পিতা: সারোয়ার হোসেন) একটি বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। বিয়ের পাত্রীপক্ষ কাওছারের চরিত্র ও চালচলন সম্পর্কে ইমাম আল-আমিনের কাছে জানতে চান। তথ্যের সত্যতা রক্ষার্থে ইমাম পাত্রীপক্ষকে জানান যে, কাওছার মাদক সেবন করেন বলে তিনি শুনেছেন। এই কথা জানতে পেরে কাওছার মারাত্মক ক্ষিপ্ত হন।
এরই জের ধরে শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে কাওছার মসজিদে প্রবেশ করেন। তিনি শত শত উপস্থিত মুসল্লির সামনেই মিম্বারের কাছে থাকা ইমাম মাওলানা আল-আমিনকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনেন এবং এলোপাতাড়ি জুতাপেটা ও লাথি মারেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত কাওছার এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি নিজে মাদক সেবন করার পাশাপাশি এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছেন। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
এ ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাইটকান্দি এলাকার সর্বস্তরের গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ফুলপুর থানায় হাজির হন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ হোসেন জানান, গ্রামবাসী এসে বিষয়টি থানায় অবহিত করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।




