
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইকালে ছিনতাইকারিদের ছুরির আঘাতে চালক মোঃ আতাউর রহমান আতা মিয়া (৬০) নিহত হয়েছেন। এ সময় ছেলে নিহতের শোক সইতে না পেরে বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুন (৭৫) মৃত্যুবরণ করেন । নিহত আতাউর রহমান বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে। গতকাল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই, গাজীপুর পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার সাংবাদিকদের জানান, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সংবাদটি পাওয়া মাত্রই পুলিশ ইন্সপেক্টর মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্বে একটি চৌকশ ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। উক্ত টিম ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামি কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগুটিয়া চালার বাজার এলাকার রাজ্জাক খানের পুত্র রাজিব খান (২৯) একই উপজেলার মির্জানগর গ্রামের নাসির উদ্দিনের পুত্র নকিবুল হাসান রাকিব (২৪) নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া এলাকার রসুলপুর গ্রামের মোঃ শামসুদ্দীনের পুত্র কিবরিয়া (৪২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তার মধ্যে আসামি রাজিব খান ও নকিবুল হাসান রাকিব হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা উল্লেখ পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা এবং অটোরিকশা বিক্রি র ২২ হাজার টাকা, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা হাতুড়ি, লোহার রড এবং একটি রশি।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতো আতাউর রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে যাত্রী পরিবহনের জন্য অটোরিকশাটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তারপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সাথে তার যোগাযোগ ছিলনা। রাত আটটার পর পাশ্ববর্তী সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে শিমুলতলী সড়কে একটি লাশ পড়ে আছে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা তাকে শনাক্ত করেন। এ সময় বাড়িতে থাকা তার বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুন ছেলের নির্মম হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সাথে সাথে মৃত্যু বরন করেন। শুক্রবার সকাল ১১.৩০ মিনিটে মা মাতা জোহরা খাতুনের জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পাশাপাশি মা ও ছেলের কবর খোঁড়া হয় ময়নাতদন্ত শেষে সজনরা লাশ বুঝে নিয়ে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে জানাজার নামাজ শেষে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন আতাউর রহমানকে।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই, গাজীপুর জেলার পুলিশ ইন্সপেক্টর মোঃ মোস্তফিজুর রহমান আনসারী জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তীর সাথে সাথে পুলিশ সুপার, পিবিআই, গাজীপুর মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক দ্রুততম সময়ে একটি চৌকশ ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করেন। ঘটনার তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় অ্যাডবান্সড আইসিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর এবং নরসিংদি জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ০৩ জন জনকে গ্রফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, অটো বিক্রয়ের ২২,০০০/- টাকা, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা হাতুরী, লোহার রড এবং রশি উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। মামলাটির তদন্তবার বিধি মোতাবেক স্ব-উদ্যোগে অধিগ্রহন করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করলে দুইজন আসামী হত্যাকান্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে দূষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। অত্র হত্যাকান্ডে আরোও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে বিধি মোতাবেক সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হবে। মামলার বাদী নিহতের পুত্র মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানায়, আসামি গ্রেফতার হওয়ায় গাজীপুর পিবিআইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেই সাথে আমার বাবার হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি। এলাকাবাসী ও কাপাসিয়া থানা পুলিশ এবং পিবিআই গাজীপুরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।



