
বিয়ের পর কামাল উদ্দিন ও আরজু দম্পতি ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে তিন সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক শাহাদাত তা মেনে নিতে না পেরে দুই দশক ধরে তাদের খোঁজখবর রেখে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন।
২০২৩ সালে শাহাদাত হোসেন ইংল্যান্ডে যান এবং সেখান থেকে সম্প্রতি অবৈধভাবে ইতালির রোমে পৌঁছে নিজেকে ‘দূর সম্পর্কের আত্মীয়’ পরিচয় দিয়ে সুকৌশলে আরজুর পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করেন, যার সুবাদে সরল বিশ্বাসে আরজু তাকে নিজের বাড়িতে যেতে দিয়েছিলেন।
২৬ জুন রাতে ওই বাসায় শুধু আরজু ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে আরিশাকে পেয়ে শাহাদাত আরজুকে ছুরিকাঘাত করেন এবং চিৎকার করায় শিশু আরিশাকেও হত্যা করেন। এর পর তিনি পালিয়ে না গিয়ে ধীরস্থিরভাবে রক্ত পরিষ্কার ও মরদেহ লুকিয়ে রেখে পরিবারের অন্যদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। আরজুর স্বামী বাবুল কাজ থেকে ফিরলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে শাহাদাত হোসেন লাপাত্তা রয়েছেন। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইল মেসাজ্জেরো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি স্ত্রী-সন্তানের কাছে ইংল্যান্ডে কিংবা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বা ইতিমধ্যে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোমে ঘটানো এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ইতালি পুলিশ তদন্তে বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এই ঘটনা বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এদিকে, ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফ্যানপোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীরা শাহাদাতের আত্মহত্যার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন; কারণ তিনি হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে ফেসবুকে কিশোর কুমারের ‘মেরা জীবন কোরা কাগজ’ গানটি শেয়ার করে রহস্যময় স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মানুষ একা মরে না, অন্যকে মরার মতো করে রেখে যায়; তাই প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত যেন কারো জন্য কষ্ট পেতে না হয়।’



