
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আতিকুর রহমানের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন একই সংগঠনের মো. হারুনুর রশীদ তিনি বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ও মাওলানা আবু নোমান মোহাম্মদ বাসের উদ্দিন আল আজাদ এর দ্বিতীয় পুত্র দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই নেতার ভিন্ন অবস্থান ঘিরে ইউনিয়নটিতে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মো. আতিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে তাঁর প্রার্থী নির্বাচন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একই সংগঠনের বিভিন্ন নেতা কর্মী সহ হারুনুর রশীদ। স্থানীয় জামায়েত নেতা কর্মী সহ
হারুনুর রশীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়েত ইসলামীর হয়ে কাজ করে বিভিন্ন সময় লাঞ্ছিত, অত্যাচারিত ও ঘর ছাড়া হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে গরীব দুঃখী মানুষকে অনুদান প্রদান করতে গিয়ে তৎকালীন সরকারি দলের মাধ্যমে বাধাগ্রস্থ ও লাঞ্ছিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন আমার একটি ইসলামী সংগঠনের হয়ে কাজ করি প্রার্থী বাছাইয়ের সময় বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোশাররফ হোসেন সাংগঠনিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের আতিকুর রহমানের পক্ষে ভোট দিতে নির্দেশনা দেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের হস্তক্ষেপ সংগঠনের গঠনতান্ত্রিক বিধিবিধান ও অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মো. হারুনুর রশীদ বলেন, “প্রার্থী বাছাইয়ের ভোটে অনিয়ম এবং সুদি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি আমাকে হতাশ করেছে। এসব কারণে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই নেতার ভিন্ন অবস্থানে ইউনিয়নটিতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আতিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মো. শাহ জালাল সবুজ। জেলা ও উপজেলা জামায়াতের সমর্থন পাওয়া আতিকুর রহমান ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন।অন্যদিকে, হারুনুর রশীদও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি।হারুনুর রশীদ বলেন, “তিন মাস আগেও আমি বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি ছিলাম এবং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলাম। এখন আমাকে কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, তা আমার জানা নেই। গোটা পৃথিবী একদিকে গেলেও আমি নির্বাচন করব। আমি একা হলেও নির্বাচন করব।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হারুনুর রশীদ দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং সুদভিত্তিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এসব কারণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি জামায়াতের সঙ্গে ছিলাম। তবে নির্বাচন করার জন্য হলেও হয়তো সামনে আর থাকব না।”
ইউনিয়নের সাবেক সেক্রেটারি আরিফুল ইসলামও প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সভাপতি কর্তৃক ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়ম এবং সুদভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার কারণে বিদ্যানন্দ জামায়াতের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তিনি সংগঠন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানান। তাঁর দাবি, এ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের কয়েকজন কর্মী এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
স্থানীয় জামায়াতকর্মী ইয়াসিন আলী বলেন, ৫ আগস্টের আগে আতিকুর রহমান ইসলামি যুব আন্দোলনের (চরমোনাই)এর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের দায়িত্বশীল পদের ও ইউনিয়নের জামায়াতের সাধারণ সহযোগী ছিলেন। ইয়াসিন আলী নিজেও আগে জামায়াতের ওয়ার্ড বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হারুনুর রশীদকে পদত্যাগ করতে হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে একই সংগঠনের আরেক নেতার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।





