কুমিল্লা বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) এক ব্যক্তিকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চারদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (১৭ মে) বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (৩৫) বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে সকাল ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় মাহির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় একই সম্প্রদায়ের জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহির। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মাহিকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
চিকিৎসকরা জানান, মাহির শ্বাসনালীসহ শরীরের প্রায় ৪৪ শতাংশ পুড়ে যায়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকার সরকারি জায়গায় কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। নিহত মাহিও এর আগে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন। সম্প্রতি মাদকের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক ফরহাদ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত জহির এখনো পলাতক রয়েছে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জহিরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত বেলায়েত’কে র‌্যাব-৮ কর্তৃক গ্রেফতার

বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্প এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ মে ২০২৬ইং তারিখ রাতে বরগুনা জেলার তালতলী থানাধীন নিশানবাড়িয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত মোঃ বেলায়েত (৪০), পিতা-মোঃ নিজাম, সাং-চর লাঠিমারা, ৯নং ইউপি, থানা- পাথরঘাটা, জেলা- বরগুনা’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এজাহারের বিবরণে জানা যায়, বাদী ও অভিযুক্তগন পাশাপাশি বসবাস করে। তাদের মধ্যে গাছ কাটা নিয়ে অনেকদিন যাবত বিবাদ চলে আসছিল। ঘটনার দিন গত ১০ মে ২০২৬ইং তারিখ পুনরায় তাদের মধ্যে গাছকাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি হয় এবং অভিযুক্তগণ একত্রিত হয়ে বাদীর স্বামীকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। উপস্থিত সাক্ষীর ডাক চিৎকারে ঘটনাস্থলে অন্যান্য সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তগণ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ মে ২০২৬ইং তারিখ তিনি মারা যান। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  উল্লেখ্য যে, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৮, ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধী অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তার অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্ত’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বরগুনা জেলার আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।