সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ও সাবেক ওসির বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার একটি মামলায় জেলার ডোমার থানা পুলিশ আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট পেশ করে। তদন্ত প্রতিবেদনে থানা পুলিশ বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারী দল এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নাশকতাকারী ও সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পলাতক আওয়ামীলীগ সরকারের তৎকালীন এমপি ও পুলিশের তৎকালীন ডোমার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক ওসির বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার দায়ের করা মামলায় আওয়ামী এম,পি ও পুলিশের ওসিকে বাচাতে তদন্ত প্রতিবেদনে এ দাবী করে পুলিশ। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি ও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, নীলফামারী-০১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, আফতাব উদ্দিন সরকার ও তৎকালীন ডোমার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন (বিপি-৭০৯৮০৬৬৮৮১) সহ অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০ জনের বিরুদ্ধে জেলার ডোমার উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ বিন আমিন সুমন আদালতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের উপর মামলা, হামলা, নির্যাতন, চাঁদাদাবী’র একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-জি.আর ১৬৫ (ডোম), তারিখ-০৩/১০/২০২৪। মামলাটি তদন্ত শেষে ০৫/০২/২০২৬ তারিখে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ডোমার থানা পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডোমার থানার এসআই মানিকুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, এ নেতারা পুর্বের দায়ের করা ভোট কেন্দ্রে হামলা, অগ্নি সংযোগ মামলার আসামী ছিলেন। যাদের মামলা নং-জিআর-৩/২০১৪ এবং জিআর-৪/২০১৪। অত্র মামলার বাদী বিএনপি নেতা মাসুদ বিন আমিন সুমন রাজনৈতিক দল বিএনপি’র ডোমার উপজেলা শাখার নেতা। ডোমার থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন ডোমার থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকাকালে বিগত ০৫/০১/২০১৪ ইং তারিখে দেশব্যাপি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে জামায়াত-বিএনপি অংশগ্রহন না করে তৎসময়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীগন সারাদেশের মত ডোমার থানা এলাকাতেও বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে হামলা, অগ্নিসংযোগ সহ ব্যাপক নাশকতা করে। এ কারনে উক্ত পৃথক পৃথক ঘটনার প্রেক্ষিতে ডোমার থানায় পৃথক পৃথক নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। যার জিআর মামলা নং-০৩/১৪ ও ০৪/১৪। অত্র মামলার বাদী মাসুদ বিন আমিন সুমন সহ অপরাপর নেতা হারুন অর রশিদ, পারভেজ ও রতন আলীগন জিআর-৩/২০১৪ এবং জিআর-৪/২০১৪ মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী। গত ১৪/০৩/২০১৫ ইং তারিখ ডোমার থানায় কর্মরত অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপি নেতা মাসুদ বিন আমিন সুমন কে জি.আর মামলার আসামী হিসেবে গ্রেফতার করে। এর ফলে বিএনপি নেতা সুমনের দায়ের করা আওয়ামীলীগের এমপি ও ওসি’র বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোন সত্যতা নেই। সেই কারনে মামলা হতে সাবেক সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার ও তৎকালীন ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, বিপি-৭০৯৮০৬৬৮৮১, বর্তমান পদবী সহকারী পুলিশ সুপার, র্যাব-৫, রাজশাহী, সহ সকলের বিরুদ্ধে বাদীর আনীত অভিযোগ ও অপরাধের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে ফ্যাসিষ্ট আমলে দায়ের করা ভোট কেন্দ্রে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের জিআর ০৩/১৪ ও ০৪/১৪ নং মামলায় ২০২৪ সালে বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীগন আদালত কতৃক বেকসুর খালাস প্রাপ্ত হয়। অসত্য মামলা দুটির সুত্র ধরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে দল হিসাবে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে নুতন করে অভিযোগ আনে এ পুলিশ কর্মকর্তা। যে তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর ও প্রতিস্বাক্ষর করেন ডোমার থানার অফিসার ইন চার্জ হাবিবুল্লাহ ও এএসপি নিয়াজ মোর্শেদ এবং পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা মাসুদ বিন আমিন সুমন জানান, আওয়ামীলীগের এমপি আফতাব ও ওসি মোয়াজ্জেমকে বাচাতে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তাদরেকে বাচাতে বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তদন্ত অফিসার মানিকুল জানে। এর বেশী তিনি বলতে রাজী নন।
এ ব্যাপারে ডোমার থানার এসআই ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকুল ইসলাম উর্ধ্বত্বন অফিসারের কনসার্ন ছাড়া তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান।



