
খুলনা মহানগরীর শামসুর রহমান রোডস্থ আব্দুল্লাহ প্যাথলজির বিরুদ্ধে রোগীর পরীক্ষার নমুনা ফেরত দিতে টালবাহানা ও অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হলে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে প্রতিষ্ঠানের মালিক ডা. মাহবুবুর রহমান হামলা ও ভাঙচুরের নাটক সাজিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্যাথলজি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও স্থানীয়রা বলছেন, সেখানে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো প্রকৃত ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন।
ওসি লোকমান হোসেন জানান, ঘটনাটি মূলত একজন রোগীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ঘটেছে। এটি চাঁদাবাজির ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ওই প্যাথলজিতে ক্যান্সারসংক্রান্ত একটি পরীক্ষা করানো হয়। পরবর্তীতে রোগীকে নিয়ে ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষার নমুনাটি সঙ্গে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর আব্দুল্লাহ প্যাথলজি থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে গেলে কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা শুরু করে এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এমনকি নমুনা দিতে ৭২ ঘণ্টা সময় চাওয়ার বিষয়টিও ছিল কালক্ষেপণের কৌশল বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
তাঁদের আরও অভিযোগ, পরীক্ষার রিপোর্ট ও নমুনা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই স্থানীয়দের সঙ্গে প্যাথলজি কর্তৃপক্ষের বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।
এদিকে ঘটনার দিন প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসকের স্ত্রী ও একজন কর্মচারী অভিযোগ করেছিলেন, সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান এবং চিকিৎসককে মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে চিকিৎসকের স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁর ঠোঁটে আঘাত লাগে বলেও দাবি করা হয়। এমনকি ডাক্তারের স্ত্রীর মুখে ইট দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও প্রচার করা হয়।
তবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ কিংবা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের কোনো নমুনাও দেখা যায়নি বলে জানান তাঁরা।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্যাথলজির বিভিন্ন অনিয়ম ও রোগীদের ভোগান্তির বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এখন উল্টো চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের পরীক্ষার নমুনা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনৈতিক সুবিধা দাবি করার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।
এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যথাযথ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।




