‎গ্রামের বাড়ি পিতলগঞ্জে পারিবারিক মিলনমেলা, আগামীর করণীয় নিয়ে শহিদুল্লাহ কায়সারের মতবিনিময় ‎

‎মানুষের ভালোবাসা, আত্মীয়তার টান আর আগামীর স্বপ্ন—সব মিলিয়ে গ্রামের বাড়ি পিতলগঞ্জে যেন বসেছিল এক আবেগঘন মিলনমেলা। নির্বাচন সামনে রেখে নিজের শেকড়ের মানুষের কাছে ফিরে এসে তাদের কথা শুনলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহিদুল্লাহ কায়সার শহিদ।
‎মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোসেনপুরের পিতলগঞ্জে প্রার্থীর নিজ গ্রামের বাড়িতে আয়োজন করা হয় এ পারিবারিক মিলনমেলা ও আগামীর করণীয় নিয়ে মতবিনিময় সভা। নিজের গ্রাম ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মুরুব্বি, যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় প্রাণবন্ত এক মিলনমেলায়।এ সভা একসময় পরিনত হয় জনসমূদ্রে।
‎এ যেন শুধুই একটি রাজনৈতিক সভা নয়—দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা, পুরোনো সম্পর্কের টান আর এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার এক আন্তরিক আয়োজন।
‎সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিম উদ্দিন মাখনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন শহিদুল্লাহ কায়সারের বড় ভাই কিশোরগঞ্জ পিটিআইয়ের সুপারিন্টেন ফরিদ আহমেদ, নিজ বংশের মুরুব্বি ও যুবকরা।
‎এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ, জেলা নবীন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সিদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন রিটন মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বাসার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল আলম রবিনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
‎মতবিনিময়ে উঠে আসে গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ, এলাকার নানা সমস্যা, উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং আগামীর করণীয় নিয়ে নানা প্রত্যাশার কথা। কেউ তুলে ধরেন যোগাযোগব্যবস্থার কথা, কেউ বলেন তরুণদের কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার সুযোগের কথা। আবার কেউ চান এলাকার মানুষের পাশে থেকে সুখে-দুঃখে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো একজন আপন মানুষ।
‎আর এসব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন শহিদুল্লাহ কায়সার। নিজের এলাকার মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামীতেও পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
‎পিতলগঞ্জের মানুষের কাছে শহিদুল্লাহ কায়সার শুধু একজন সম্ভাব্য প্রার্থী নন—সকলের কাছে তিনি এই মাটিরই সন্তান, পরিচিত মুখ, দীর্ঘদিনের আপনজন। তাই তাকে ঘিরে মুরুব্বিদের আশীর্বাদ আর তরুণদের উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজনেই ছিল আবেগের ছোঁয়া।
‎অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে—নিজ গ্রামের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের জায়গাটি এখনো কতটা গভীর। সন্ধ্যার পিতলগঞ্জ তাই একসময় হয়ে ওঠে আত্মীয়তা, ভালোবাসা আর প্রত্যাশার এক মিলনমেলা।
‎অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলামিস্ট এসএম মিজানুর রহমান মামুন ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক স্বপন আহমেদ।
‎স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচন শুধু ভোটের হিসাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের ভালোবাসা, আস্থা, আশা-আকাঙ্ক্ষা আর এলাকার ভবিষ্যৎ। সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই গ্রামের বাড়ি পিতলগঞ্জে শহিদুল্লাহ কায়সারের এই পারিবারিক মিলনমেলা ও মতবিনিময় যেন হয়ে উঠেছে আগামীর পথচলার কথা বলার একটি উপলক্ষ।
‎সবশেষে গ্রামের প্রয়াত মানুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
‎পিতলগঞ্জের মাটিতে সেদিন যেন একটি কথাই বারবার ফিরে এসেছে—শেকড়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আগামীর পথচলা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

ভুরুঙ্গামারীতে বিক্ষুব্ধ কৃষকের বিরুদ্ধে গুদাম ভেঙে ১৯০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা একটি বিসিআইসি