
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশীয় তৈরি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলিসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া ও হালকাচা পাড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অস্ত্র তৈরি, কেনাবেচা, ভাড়া দেওয়া এবং সংঘবদ্ধ ডাকাতির সঙ্গে জড়িত।
যেভাবে চালানো হয় অভিযান
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ ও থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, রাত ৯টা ৫ মিনিটে লাল ব্রিজ এলাকায় অবস্থানকালে খবর আসে পশ্চিম ছনুয়া পাড়ার একটি বসতঘরে ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতির জন্য জড়ো হয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় গাড়ি রেখে প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গিয়ে বাড়িটি ঘেরাও করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬)
নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০)
জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬)
মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০)
জহুরা বেগম (৪৫)
শহর বানু (৫৫)
প্রথম অভিযানে উদ্ধার করা হয় একটি দুইনালা রাইফেল, একটি একনালা রাইফেল, একটি শর্টগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি তাজা কার্তুজ, দুটি খোসা, একটি ক্লিনিং রড, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম এবং ছয়টি মোবাইল ফোন।
পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালকাচা পাড়ায় দ্বিতীয় দফা অভিযান চালিয়ে শহর বানুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ির পেছনের পুকুরে ফেলে রাখা একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি। দুই দফা অভিযানে মোট উদ্ধার হয় ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি।
পুলিশের দাবি
চকরিয়া থানা পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অস্ত্র ও গুলি তৈরি, কেনাবেচা এবং ডাকাতদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সড়ক ডাকাতি, মাছের ঘোনায় ডাকাতি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের উৎস উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



