
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শাশুড়ি ও বউয়ের ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রতিবেশীর গাছের আঘাতে মোহাম্মদ রাশেদ (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহবধূ জমিলা আক্তারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রাশেদ বাঁশখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল জলদি এলাকার মো. নুরুল আলমের ছেলে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার জমিলা আক্তার একই এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে বাঁশখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধূইল্যাঝিরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে দুষ্টুমির কারণে নাতনিকে বেত দিয়ে শাসন করেন হোসনে আরা বেগম। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হন জমিলা আক্তার। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হোসনে আরা বেগমকে রক্ষা করতে এবং ঝগড়া থামাতে এগিয়ে যান প্রতিবেশী রাশেদসহ স্থানীয় কয়েকজন।
অভিযোগ রয়েছে, ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জমিলা আক্তার একটি কাঠের টুকরো বা গাছের অংশ দিয়ে রাশেদের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফরিদা বেগম ও রুফিয়া বেগমসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে স্বামী হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিহত রাশেদের স্ত্রী জেসমিন আক্তার। তিনি অভিযুক্ত জমিলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, বউ-শাশুড়ির বিবাদ মেটাতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রাশেদ নামের ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জমিলা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।



