
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬ইং তারিখ) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাঈদ চাঁদ। সভাপতিত্ব করেন চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস।
সভায় জানানো হয়, চলতি বছর চারঘাট উপজেলায় মোট ৪৩টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় পূজা মন্দির ফেডারেশনের প্রতিনিধি, নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অভিলাষ সাহা এবং উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ব্রজহরি দাসসহ সংশ্লিষ্টরা পূজা চলাকালে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে নামাজের সময়ের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানো হয়। নামাজের পাঁচ মিনিট আগে থেকে নামাজ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট পর পর্যন্ত মাইক ও শব্দযন্ত্র বন্ধ রাখার নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূর বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো যাবে না। কেউ গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
চারঘাট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অন্যায় বা অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। তিনি সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সভায় চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাকিরুল ইসলাম (বিকুল), নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর আহমেদ, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আসাদুজ্জামান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ পূজা মন্দির ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।





