চিকিৎসার টাকায় শেষ স্ত্রীর সম্পদ, নিজের জমি নিয়েও ছিল বিরোধ—অবশেষে না ফেরার দেশে খলিলুর

তিন বছর আগে তালগাছ কাটতে গিয়ে গাছ শরীরের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন খলিলুর রহমান। ওই দুর্ঘটনায় তাঁর কোমর ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে আর ঘরে ফিরতে পারলেন না তিনি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা খলিলুর রহমান মারা গেছেন।

স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন স্ত্রী কোহিনুর বেগম। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ওয়ারিশ সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন বলে জানান তিনি। কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসায় সেই অর্থও শেষ হয়ে যায়। স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাঁর নিজের সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নিলেও পরিবারের সদস্যদের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছিলেন কোহিনুর।

কোহিনুরের অভিযোগ ছিল, খলিলুর রহমানের বড় ভাইসহ অন্যান্য ভাই-বোনেরা তাঁর স্বামীর জমি বিক্রিতে বাধা দিচ্ছেন। এমনকি খলিলুরের কিছু জমি অন্যরা ভাড়া দিয়ে সেই অর্থ ভোগ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জমিজমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তাঁর স্বামীর কাছে নেই এবং পরিবারের সদস্যরা সেসব কাগজপত্র নিজেদের কাছে রেখেছেন বলে দাবি করেছিলেন কোহিনুর।

কোহিনুর বেগম জানিয়েছিলেন, তাঁদের কোনো সন্তান নেই। স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় সংসার ও চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব তাঁর ওপর এসে পড়ে। স্বামীকে বাঁচানোর আশায় নিজের ওয়ারিশ সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসায় লাখ লাখ টাকা ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত অর্থাভাবে চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেছিলেন, “স্বামীকে সুস্থ করার আশায় আমার নিজের ওয়ারিশ সম্পত্তি বিক্রি করে ১৪-১৫ লাখ টাকা চিকিৎসায় দিয়েছি। এখন আর আমার হাতে টাকা নেই। স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাঁর নিজের জমি বিক্রি করতে চাইলেও বড় ভাইসহ অন্যরা বাধা দিচ্ছেন।”

দীর্ঘ তিন বছর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর মঙ্গলবার খলিলুর রহমানের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তবে মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তির মালিকানা, কাগজপত্র, ভোগদখল ও উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে কোনো বিরোধ তৈরি হয় কি না—সেদিকেও নজর রয়েছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে খলিলুর রহমানের কোনো সন্তান না থাকায় তাঁর সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকার কারা হবেন, তা নিয়ে পরিবারে জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জীবদ্দশায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা খলিলুরের চিকিৎসা ও সম্পত্তি নিয়ে যে পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ উঠেছিল, মৃত্যুর পর তা যেন আরও জটিল আকার ধারণ না করে। সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো আইন অনুযায়ী যাচাই করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন