ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নতুন প্রশাসন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির বিরোধী দল দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) প্রধান অনিথা রাধাকৃষ্ণন। একইসঙ্গে বিজয়ের সরকার ছয় মাসও টিকবে না বলে দাবি করেন এই নেতা। রোববার (১৭ মে) দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ দাবি করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে ১০৭টি আসন নিয়ে এককভাবে সবচেয়ে বড় শক্তি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাগাজম (টিভিকে)। তাদের মিত্র কংগ্রেসের রয়েছে আরও পাঁচটি আসন। এছাড়া ডিএমকের চার মিত্র দলের প্রত্যেকের দুটি করে আসন রয়েছে। টিভিকে তাদের সমর্থনে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।
জানা যায়, বক্তব্যের একপর্যায়ে অনিথা তামিলগা ভেট্ট্রি কাজাগম বা টিভিকের জ্যেষ্ঠ নেতা আধব অর্জুনকে একটি প্রকাশ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এসময় সাহস থাকলে আধব যেন নিজের বিধায়ক পদ ছেড়ে তিরুচেন্দুরে এসে সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বলেও উল্লেখ করেন রাধাকৃষ্ণন।
এদিকে নিজ দলের জেলা সম্পাদকদের রাধাকৃষ্ণন বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারে এবং দলকে যেকোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই পরাজয় সাময়িক। বর্তমান সরকার যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারে। প্রস্তুত থাকুন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে আবারও বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে। আমরা ঘুরে দাঁড়াব এবং আবার জিতব।’
রাধাকৃষ্ণন দলকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বানও জানিয়ে বলেন, এক্ষেত্রে বিজয়ের দল টিভিকে অনেক এগিয়ে আছে। যে রাজনীতি আমরা একসময় চায়ের দোকানে বলতাম, এখন তা বলতে হবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হ্যান্ডেলে।
একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকের উত্থান তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ৫৯ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে দুই দ্রাবিড় প্রতিদ্বন্দ্বীকেই বিরোধী শিবিরে ঠেলে দিয়েছে। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতি বহুদিন ছিল দুই পুরোনো বৃক্ষের ছায়া।
তবে টিভিকে সূত্র বলছে, তারা এসব নিয়ে বিচলিত নয়। পূর্ণ মেয়াদ টিকে থাকার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের রয়েছে বলেই তারা আত্মবিশ্বাসী।



