
মিঠামইন থানায় যোগদানের মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই কাজের মাধ্যমে এলাকার মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ। পুরনো প্রথা ভেঙে সেবা, স্বচ্ছতা ও সম্মানকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি এখন প্রশংসায় ভাসছেন।
ওসি মনোয়ার যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে সক্রিয়।
বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের আসামি গ্রেফতার করে থানাকে বৈষম্যমুক্ত করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সাথে জড়িত ও সন্দেহে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন। এই ঘটনার পর দল-মত নির্বিশেষে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝেও তার ভূয়সী প্রশংসা শোনা যাচ্ছে।
তিনি বলেন অপরাধী যে-ই হোক, গ্রেফতারে কোনো আপস নেই।
পুলিশ ও জনগণের দূরত্ব কমাতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। থানার ওসির রুমে ঢুকতে অনুমতি লাগবে – এই প্রথা বাতিল করেছেন। তার নির্দেশনা,এখন থেকে একজন গণকর্মচারীর অফিসে ঢুকতে অনুমতির প্রয়োজন নেই। সরাসরি রুমে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
থানায় সেবা নিতে আসা মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য নিজেই ফরিয়াদিদের কথা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করেন।
এলাকায় চুরি-ডাকাতি রোধে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নিয়মিত টহল দিচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে।
এছাড়াও ওয়ারেন্ট তামিল, মাদক উদ্ধার এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি ওসির রুমে গিয়ে চোখে পড়ার মতো একটি দৃশ্য দেখা যায়। ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ সাধারণ চেয়ারে বসা থাকলেও তার পাশে একটি উঁচু চেয়ার সংরক্ষিত রাখা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য।
সেদিন ওই সম্মানের আসনে বসেছিলেন মিঠামইন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম মিয়া। তার পাশে ছিলেন আরও দুই মুক্তিযোদ্ধা।
এ প্রসঙ্গে ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ বলেন উনারা দেশ স্বাধীন করেছেন নিজের জীবন বাজি রেখে। তাই আজ আমরা স্বাধীন দেশের মানুষ। উনারা যুদ্ধ না করলে আমরা পরাধীন থাকতাম। উনাদের কারণেই আমরা স্বাধীনভাবে চাকরি করে মানুষকে সেবা দিতে পারছি। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আসন উঁচুতে রাখা উচিত। আমি চাই মুক্তিযোদ্ধারা সবসময় সব স্থানে সম্মানিত হন। তাতেই আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ অনুভব করতে পারবো। তিনি আর ও বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার চাচা মকবুল হোসেন পাক বাহিনীদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। শেরপুর জেলায় শহীদ মকবুল হোসেনের নামে স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ছোট করে দেখি না। যেখানেই যাই সব সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আমি সম্মান করে যাচ্ছি।
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ আরও বলেন, আমি মূলত গণপ্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী। জনগণকে সেবা দেওয়াই আমার কাজ। আমি যা করছি তা আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব থেকেই করছি। আমি চাই আমার থানায় এসে যেন কোনো মানুষ কষ্ট না পায়।
ওসির এমন মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, ওসির এই পদক্ষেপগুলো পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা ও সুসম্পর্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কঠোরতা, সেবা ও সম্মান – এই তিনের সমন্বয়ে মিঠামইন থানাকে নতুন রূপ দিচ্ছেন ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ। স্বল্প সময়ে তার কাজই প্রমাণ করছে, ইচ্ছা থাকলে পুলিশও হতে পারে জনগণের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা।



