
মোস্তাফিজুর রহমান সুজন উপজেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় একটি ব্রিজ প্রায় ১২ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটির দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ওই স্থানে বাঁশের জাকলা তৈরি করে তিন গ্রামের হাজারো মানুষকে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির দুই পাশের মাটি ধসে গেলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের জাকলা তৈরি করে কোনোরকমে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন তারা। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও রোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেতকীবাড়ি দালানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠানপাড়ার দিকে যাওয়ার পথে ব্রিজটির অবস্থান। ব্রিজের দুই পাশে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের ওপর বাঁশের জাকলা বিছিয়ে স্থানীয়রা পারাপার করছেন। ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলের পাশাপাশি মোটরসাইকেলও ঠেলে ওই বাঁশের জাকলার ওপর দিয়ে পার করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পার হতে হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, বাঁশের জাকলা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এটি দিয়েও চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কেতকীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমান বলেন, ঠাটারীপাড়া ও পাঠানপাড়া এলাকার মাঝখানে ব্রিজটির অবস্থান। তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই ব্রিজটি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্রিজটি দিয়ে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রায় হাজারো মানুষ চলাচল করেন। বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ডোমার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমান বলেন, ব্রিজটির বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। সেখানে বক্স টাইপের ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে মাটির অবস্থা বিবেচনায় পাইলিং প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য পাইলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেখানে আরও বিশেষভাবে পরিদর্শন করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটির স্থায়ী সমাধান করবে।




