
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় কাশমিরা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ/ত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পলাশবাড়ী (নয়াবাড়ী) গ্রামে একটি দিঘির পানি থেকে তার ম/র/দে/হ উদ্ধার করা হয়।
নি হ ত কাশমিরা ওই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে মাহমুদুল হাসান মুন্নার স্ত্রী। তিনি উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের এন্তাজুল হকের মেয়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে দিঘির পানিতে এক নারীর ম/র/দে/হ ভাসতে দেখে বলে বিষয়টি জানানো হয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ম/র/দেহটি কাশমিরার বলে শনাক্ত করেন এবং পানি থেকে উদ্ধার করেন।
এদিকে, কাশমিরার মৃ/ত্যু/র কারণ নিয়ে স্থানীয় ও স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার বিষয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বক্তব্যে এবং সময়ের ভিন্নতা রয়েছে। পানিতে পড়ে যাওয়ার পর আত্মরক্ষার চেষ্টা বা পাড়ে ওঠার কোনো দৃশ্যমান চিহ্নও তারা দেখতে পাননি বলে দাবি করেন। এ কারণে তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের মা আলেফা জানান, সকালে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে কাশমিরার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চাওয়া হয়। পরে মেয়ের শ্বশুর ফোনে জানান, কাশমিরা পানিতে ডুবে গেছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের কোনো ঝগড়া ছিল বলে তিনি জানতেন না বলেও জানান।
নিহত কাশমিরার শ্বশুর আবু বক্কর বলেন, সকালে গোয়ালঘরের কাজ শেষ করে তিনি চিকিৎসকের কাছে যান। তার আগে কাশমিরা নামাজ পড়ে বাড়ির কাজ করছিলেন। পরে বাড়ি থেকে ফোনে জানতে পারেন, কাশমিরা পানিতে ডুবে মা/রা গেছেন। বাড়িতে টিউবওয়েল ও পানির ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন দিঘির দিকে গিয়েছিলেন, তা বুঝতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
নিহতের স্বামী মাহমুদুল হাসান মুন্নার দাবি, সকালে বাবাকে এগিয়ে দিয়ে এসে তিনি স্ত্রীকে ঘরের কাজ করতে বলেন এবং নিজে গরু বাঁধতে যান। পরে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা-জানালা খোলা দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর পাশের দিঘির দিক থেকে চিৎকার শুনে সেখানে গিয়ে পানিতে স্ত্রীর ম/র/দে/হ ভাসতে দেখেন। তার ভাষ্য, দিঘিতে স্ত্রীর যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবে এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই।
বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, ম/র/দে/হ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃ/ত্যু/র প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।





