দাদন ব্যবসায়ীর সুদের ফাঁদে নিঃস্ব বহু পরিবার, গ্রেপ্তার ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে রিপন মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে উচ্চ সুদে টাকা ধার দিয়ে তা পরিশোধের পরও ভুক্তভোগীদের হয়রানি এবং আদালতে শতাধিক মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি রশিদুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, রিপন মিয়ার দাদন ব্যবসার কারণে কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ জমি-জমা ও বসতভিটা হারিয়েছেন, আবার কেউ পড়েছেন পারিবারিক সংকটে। এ কারণে অনেক পরিবারে দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি হয়রানির শিকার হয়ে কেউ কেউ গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রনচণ্ডি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি রিপন মিয়ার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। এর বিপরীতে তাঁকে ২০টি ফাঁকা চেক দিতে হয়। ধার নেওয়া টাকা পরিশোধ করার পরও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এখনো রিপন মিয়ার কাছে তাঁর ১৬টি চেক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, তিনি রিপন মিয়ার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ধার নিয়ে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও দেওয়া দুটি চেকের বিপরীতে তাঁর বিরুদ্ধে যথাক্রমে ১৬ লাখ ও ১৪ লাখ টাকার মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন পল্লী চিকিৎসক গাউসুল আজম বিপু ও মাদরাসা শিক্ষক আফজালুল হক।

বক্তারা অভিযোগ করেন, উচ্চ সুদে টাকা ধার দেওয়ার পর তা আদায় করেও ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব মামলার অনেকগুলো রিপন মিয়ার স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক এম ওমর ফারুকের একমাত্র কন্যার জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সদস্য, সাংবাদিক ও ফারুক প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী এম ওমর