
দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও সহিংস ঘটনার পর সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম দুই দিনব্যাপী চলবে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। তবে ভোটগ্রহণের তারিখ অপরিবর্তিত রেখে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ২৭ ও ২৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র বিতরণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং শ্রমিক লীগের দিনাজপুর পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের আগের রাত অর্থাৎ ২৬ আগস্ট পুলিশ গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর প্রতিবাদে শেখ বাদশার সমর্থক ও অনুসারী শ্রমিকরা ২৭ আগস্ট সকাল থেকে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা চালায় এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রুটে বাস-ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। ফলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা।
একপর্যায়ে শেখ বাদশার সমর্থক ও প্রতিপক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয় এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নির্বাচন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। পরে আদালতের মাধ্যমে শেখ বাদশাকে কারাগারে পাঠানো হলে অবরোধ কর্মসূচি ভেঙে যায় এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নতুন করে সংশোধিত তফসিল ঘোষণা করে।
সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী শুক্রবার সকাল থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হলেও নির্বাচনকে ঘিরে অতীতের মতো উৎসবমুখর পরিবেশ চোখে পড়েনি। নির্বাচন অফিস ও আশপাশে প্রার্থীদের সমর্থকদের উপস্থিতি থাকলেও ছিল না কোনো আনন্দ-উচ্ছ্বাস বা মিছিলের আমেজ। সহিংসতার রেশ কাটিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে এখনো এক ধরনের সতর্কতা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে বিতর্কিত শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার পক্ষে তার এক সহোদর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার প্রার্থিতা ও নির্বাচন ঘিরে শ্রমিক মহলে এখনো ব্যাপক আলোচনা চলছে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন, অবশিষ্ট কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত তারিখে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।





