শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের খালপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে যুবক–যুবতী আটক এবং বাসার মালিককে মারধরের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালপাড় এলাকার বাসিন্দা তরিকত আলী তার বাড়ির সামনে “বাসা ভাড়া দেওয়া হয়” সাইনবোর্ড টানিয়ে কিছুদিন ধরে ভাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাসাটি দিনভিত্তিক ভাড়ায় ব্যবহৃত হওয়ায় অপরিচিত লোকজনের যাতায়াত বেড়ে যায়, যা নিয়ে আগে থেকেই তাদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল।
গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কাকরকান্দি ইউনিয়নের পলাশিয়া গ্রামের মোঃ আসিক (২৭) এক তরুণীকে নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা দেয়াল টপকে পালানোর চেষ্টা করলেও পরে পাশের একটি বাড়ি থেকে তাদের ধরে আবার ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়।
এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বাসার মালিক তরিকত আলীকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাসার মালিক তরিকত আলী দাবি করেন, তিনি বৈধভাবে বাসা ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। ভাড়াটিয়া নিজেকে বিবাহিত পরিচয় দিয়ে পারিবারিক সমস্যার কথা বলে বাসা নেন। তবে পরে জানা যায়, তার আগেই অন্যত্র পরিবার রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে মারধর করা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চলছিল, যা সামাজিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। তারা এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।




